ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর জেলায় সেমরি গ্রামে শনিবার সন্ধ্যায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক মা নিজের দুই শিশুকে খুন করার পর আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, মৃতার নাম সঙ্গীতা (৩৫)। নিহত দুই সন্তানের নাম শিবাংশ (৩ বছর ৮ মাস) ও শুভঙ্কর (১৪ মাস)।
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, সঙ্গীতা প্রথমে শিশুর মুখে কাপড় চাপিয়ে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর তিনি ঘরের ছাদে নারকেলের আঁশের দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মৃতদেহের চিহ্ন ও পরিস্থিতি পুলিশকে দ্রুত তৎপর হতে বাধ্য করে। ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না সঙ্গীতার স্বামী হরিশচন্দ্র। বাড়ি ফিরে তিনি প্রথম ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তিনটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
স্থানীয় সাদা সার্কেল অফিসার অমর বাহাদুর বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।” পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার স্থান পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে। পুলিশ ও সমাজকর্মীরা মনে করছেন, সঙ্গীতার মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অবহেলা এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে পরিবারের পারিবারিক চাপ, আর্থিক পরিস্থিতি এবং সামাজিক একাকীত্বও ঘটনার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, সঙ্গীতা সাধারণত শান্ত স্বভাবের ছিলেন, তবে কিছু সময় ধরে তিনি মানসিকভাবে অস্থির থাকতেন। প্রতিবেশীরা আরও জানান, তার মানসিক সমস্যার কারণে কখনও কখনও তিনি স্বাভাবিক আচরণ করতে পারতেন না, যা পরিবারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল।
পুলিশ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সমস্ত দিক পরীক্ষা করে দেখছে। স্থানীয় প্রশাসনও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং পারিবারিক সহায়তার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই দুঃখজনক ঘটনার ফলে সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার প্রতি আরও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
