নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজধানী। সোমবার ইন্ডিয়া জোটের মিছিল থেকেই আটক করা হয় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাকে। তারপর থেকেই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় আন্দলনকারীদের মধ্যে।
সোমবার সকাল থেকেই সংসদ ভবনের মকর দ্বারে জড়ো হতে শুরু করেন ইন্ডি জোটের সাংসদরা। কংগ্রেসের দুই কক্ষের সাংসদদের পর যোগ দেন অন্যান্য দলের সাংসদরাও। তবে নজর কাড়েন সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা। লাল টুপি, লাল উত্তরীয় পরে হাতে লাল প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজির হন তাঁরা। কৈরানার সাংসদ ইকরা হাসানের প্ল্যাকার্ডে কটাক্ষের সুরে লেখা ছিল, “এক কচৌরি, দুই সমোসা; জ্ঞানেশ, তোমায় ভরসা নেই”। জেন জি স্লোগান প্রসঙ্গে ইকরা বলেন, এটাই এখন তাঁদের প্রতিবাদের প্রতীক।
অভিনেত্রী-সাংসদ জয়া বচ্চনকেও দেখা যায় লাল স্কার্ফ পরে। তাঁর হাতে ছিল “নির্বাচন কমিশন বৈষম্য করছে, PDA ভোট কাটছে” লেখা প্ল্যাকার্ড। তাঁর কথায়, “লাল টুপির সঙ্গে লাল স্কার্ফ ধীরে ধীরে আমাদের পোশাকের অংশ হয়ে যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখেই PDA ভোট কাটা হচ্ছে।”
গতকাল প্রায় ২০০ জন সাংসদের মিছিল ট্রান্সপোর্ট ভবন পেরোতেই আটকে দেয় পুলিশ। PTI এবং RBI ভবনের সামনে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাবস্তি শুরু হতেই গতকাল রাস্তায় বসে পড়েন অখিলেশ যাদব। এর মধ্যেই রাহুল গান্ধী সোজা ব্যারিকেডে উঠে যান হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে।
এরপর সাংসদদের আটক করে সংসদ মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বাস আনা হয়। অখিলেশ যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মনোজ ঝা, ডেরেক ও’ব্রায়েন সহ-অনেকেই বাসে উঠে পড়েন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও একটি বাসে বসেছিলেন। কিন্তু রাহুল গান্ধী বাসে না উঠে হাঁটা দেন আকাশবাণী ভবনের দিকে। সেখানে ঢুকতে বাধা দেওয়া হলে ছুটে আসেন কে সি বেণুগোপাল। খবর পেয়ে বাস থেকে নেমে আসেন প্রিয়াঙ্কাও। আকাশবাণী ভবনের গেটে বচসার পর শেষমেশ ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয় তাঁদের। দুপুর ২টো নাগাদ সেখানেই শুরু হয় ধর্না। সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে ছিলেন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, কে সি বেণুগোপাল, চরণজিৎ সিং চান্নি এবং পবন খেরা।
এমতাবস্থায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে দলের সব সাংসদকে দিল্লিতে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, যা থেকে স্পষ্ট আন্দোলন চলবে।
তবে এবারের অভিযানে বড় চমক, এই প্রথম ইন্ডিয়া জোটের সমর্থনে রাস্তায় নামেন নবীন পট্টনায়েকের বিজু জনতা দল। দলের দুই সাংসদ মানস মঙ্গরাজ এবং সুলতা দেও এবং প্রাক্তন সাংসদ মুজিবুল্লাহ খান মিছিলে যোগ গতকাল।
এই অবস্থায় জানা যাচ্ছে, আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ইন্ডি জোট। পাশাপাশি ৭, ৮ বা ৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদনও জানানো হয়েছে জোট দলগুলির তরফে। যে নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে পারেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, শরদ পাওয়ার, ওমর আবদুল্লাহ, তেজস্বী যাদব, এম এ বেবি এবং ডি রাজা।