ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে ইজরায়েল–ইরান সংঘাত, আর সেই প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতিনয়াহু-কে সরাসরি সতর্ক করে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের গ্যাস বা জ্বালানি অবকাঠামোয় আর কোনও হামলা চালানো উচিত নয়, কারণ এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
সম্প্রতি ইজরায়েলের তরফে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে সাউথ পার্সে হামলার ঘটনা সামনে আসে। এই হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা হঠাৎ করেই তীব্র আকার নেয়। ইরানও পালটা আঘাত হানে কাতারের রাস লাফরানে প্রাকৃতিক গ্যাসের বৃহত্তম ঘাঁটিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানার ফলে শুধু সামরিক সংঘাতই নয়, এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও সরাসরি পড়তে শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি নেতানিয়াহুকে অনুরোধ করেছেন এমন হামলা থেকে বিরত থাকতে। তাঁর মতে, জ্বালানি স্থাপনাগুলিকে টার্গেট করলে তা সংঘাতকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেবে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই বিপন্ন করে না, বরং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যকেও নাড়া দেয়।
যদিও এই হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বজ্ঞান ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এ বিষয়ে আমেরিকার কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না। তবে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে এই ইস্যুতে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে কি না। অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা সরাসরি বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একদিকে সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে কূটনৈতিক চাপের মাঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে গোটা অঞ্চল। এমন অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সতর্কবার্তা কতটা কার্যকর হয়, এবং ইজরায়েল ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে।
