ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার পথে। সমুদ্রে ভেনেজুয়েলার তেলবাহী আরও একটি ট্যাঙ্কার আটক করার ঘটনার মধ্যেই ওয়াশিংটনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানা যাচ্ছে, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকার একাধিক বড় তেল সংস্থার শীর্ষ কর্তারা। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদ, সেই তেলের রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যতে মার্কিন সংস্থাগুলির সম্ভাব্য ভূমিকা।
ক্যারিবিয়ান সাগরে আটক হওয়া ট্যাঙ্কারটি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহণ করছিল বলে অভিযোগ। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ভেনেজুয়েলার তেল রফতানি থেকে প্রাপ্ত অর্থ অবৈধ কার্যকলাপে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেই কারণেই সমুদ্রে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং একের পর এক ট্যাঙ্কার আটক করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই আটক চতুর্থ বা পঞ্চম ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহণে কোনও রকম ছাড় দিতে নারাজ আমেরিকা।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্পের সঙ্গে তেল সংস্থার প্রতিনিধিদের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বৈঠকে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ভবিষ্যৎ কাঠামো, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মার্কিন সংস্থাগুলির বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। সূত্রের দাবি, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্র পুনর্গঠনে আমেরিকার বড় তেল সংস্থাগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে বলা হতে পারে, তবে তার বিনিময়ে থাকবে কঠোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শর্ত।
ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, ভেনেজুয়েলার তেল যেন আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন অনুমতি ছাড়া প্রবেশ না করে, সেই লক্ষ্যেই এই কৌশল। তেল সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট করা হয়েছে, ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার তেল রফতানি কোন পথে যাবে এবং কারা সেই তেলের ব্যবসায় অংশীদার হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের উপর।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার তরফে এই পদক্ষেপকে সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ বলে কড়া ভাষায় নিন্দা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠছে, সমুদ্রে ট্যাঙ্কার আটক এবং তেল রফতানির উপর এমন নিয়ন্ত্রণ কতটা আইনি ও নৈতিক। তবে মার্কিন প্রশাসন অনড়। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এবং নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি।
