ওঙ্কার ডেস্ক: চলতি বছরের আগস্ট মাসে ভারতের উপর প্রথমে ২৫% শুল্ক আরোপ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরবর্তী কালে একাধিকবার বারণ শর্তেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় আরও ২৫% শুল্ক জরিমানা হিসাবে চাপানো হয় ভারতের উপর। ভবিষ্যতের ফলস্বরুপের কথা না ভেবে ট্রাম্পের এই নির্বুদ্ধিতার মাসুল চোকাছে মার্কিন মুলুকের আপামর জন সাধারণ, এই দাবি তুলেছিলেন সংসদের একাধিক ডেমোক্র্যাট। এবার সেই শুল্ক তুলের নেওয়ার প্রেক্ষিতে প্রস্তাব পেশ করেছে তিন ডেমোক্র্যাট। উল্লেখ্য ভারতের পাশাপাশি ব্রাজিলের উপর থেকে শুল্ক উঠানোর দাবি তোলা হয় এদিন।
যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রস্তাবে বলে হয়েছে ভারতের পণ্যের উপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। এই প্রস্তাব ঘিরে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রেও এর তাৎপর্য নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় জরুরি অবস্থার যুক্তি দেখিয়ে ভারতের বিভিন্ন পণ্যের উপর প্রথমে ২৫ শতাংশ এবং পরে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। এই সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও অযৌক্তিক বলে দাবি করা হয়েছে প্রস্তাবে। কংগ্রেসের একাংশের মতে, জরুরি অবস্থার অজুহাতে এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া সংবিধানসম্মত নয় এবং এতে কংগ্রেসের বাণিজ্য সংক্রান্ত অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
এই শুল্ক নীতির ফলে শুধু ভারতের রফতানিকারকরাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মার্কিন ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তারাও। আমদানিকৃত ভারতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মত কংগ্রেস সদস্যদের। প্রস্তাব পেশকারীদের বক্তব্য, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। এই ধরনের কঠোর শুল্ক নীতি দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার পরিপন্থী। শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও মজবুত হবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের যৌথ অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রস্তাব হাউসে গৃহীত হলে ট্রাম্প ঘোষিত জরুরি অবস্থার সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যেতে পারে এবং এর ফলে সংশ্লিষ্ট শুল্কও প্রত্যাহারের পথ খুলবে। যদিও প্রস্তাবটি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে, তবু এটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিশা নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
