ওঙ্কার ডেস্ক : ধারালির পর থারালি, ফের মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বেহাল উত্তরাখণ্ড। পুরোপুরি বিপর্যস্ত চামোলি জেলা। ভয়াবহ পরিস্থতি থারালি এলাকায়। রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (SDRF) এবং জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (NDRF) এর দলগুলিকে গৌচর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, সীমান্ত সড়ক সংস্থা (BRO) সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধার এবং ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করার জন্য মিং খেদেরে অংশ পরিষ্কার করতে শুরু করেছে। ত্রাণের কাজ পরিচালনা করছে পুলিশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং জেলা প্রশাসন।
সপ্তাহ দেড় আগে এই জেলারই ধারালি আচমকা হরপা বান আর মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ভেসে বিধ্বস্ত হয়। এখনও সেখানে জনজীবন স্বাভাবিক হয়নি। থারালিতে গভীর রাতের দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অনেকের দেহ ভেসে গিয়েছে বলে আশঙ্কা। সরকারিভাবে দুজন নিখোঁজ বলা হয়েছে। চামোলির জেলা শাসক সন্দীপ তিওয়ারি বলেছেন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী থারালি গ্রামের অর্ধেকের বেশি এলাকা ভেসে গিয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দুর্যোগ চলবে গোটা জেলা জুড়ে। খাদ্য সামগ্রী, জ্বালানি ও পানীয় জল সংগ্রহ করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বাসিন্দাদের। রাজধানী দেরাদুন ছাড়াও তেহরি, পাউরি, উত্তরকাশী, রুদ্রপ্রয়াগ, নৈনিতাল, আলমোরা, ঋষিকেশ প্রভৃতি এলাকায় তীর্থযাত্রী, দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা অনেকেই বুকিং বাতিল করছেন। গত সপ্তাহে ধারালির দুর্যোগের জেরে এখনও শতাধিক মানুষ নিখোঁজ।
এক বিবৃতিতে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সূর্য কমান্ড জানিয়েছে, “২৩ আগস্ট, ২৫শে আগস্ট আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে থারালিতে একটি ভূমিধস আঘাত হানে। ভারতীয় সেনাবাহিনী রুদ্রপ্রয়াগ এবং যোশীমঠ থেকে HADR কলাম, মেডিকেল টিম এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী কুকুরকে কাজে লাগানো হয়েছে”। সেনাবাহিনীর তরফে আরও জানানো হয়েছে, “থারালিতে সেনাবাহিনীর টিম ইতিমধ্যেই দুর্গত এলাকায় রয়েছে। তারা যুক্ত রয়েছে তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণের কাজে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর উত্তর ভারত অঞ্চল বিভাগের অতিরিক্ত সৈন্য এবং সম্পদ মোতায়েন করা হচ্ছে এবং বর্তমানে প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ অভিযান চলছে”।
প্রবল বৃষ্টিপাত থারালি উন্নয়ন ব্লকের বেশ কয়েকটি অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যার ফলে কোটদ্বীপ, রাডিবাগ, আপার বাজার, কুলসারি, চেপডো, সাগওয়ারা এবং সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিবেক প্রকাশের মতে, “ধ্বংসাবশেষ একাধিক বাড়ি ও দোকানে ঢুকে পড়েছে, অন্যদিকে চেপডোতে মেঘ ভাঙার কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চেপডোতে একজন বয়স্ক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন, অন্যদিকে সাগওয়ারা গ্রামে ২০ বছর বয়সী এক মেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ভেতরে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিং খেদেরের কাছে থারালি-গোয়ালদাম সড়ক ভারী ধ্বংসাবশেষ এবং বৃষ্টিপাতের কারণে বন্ধ ছিল। অন্যদিকে থারালি-সাগওয়ারা রুটও বন্ধ, যার ফলে এলাকায় চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
দুর্যোগে বেশ কয়েকটি গাড়ি ও যানবাহন ভেসে গেছে, অন্যদিকে কোটদ্বীপে অসংখ্য দোকান ও ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যানবাহন ধ্বংসস্তূপের স্তরের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে। রাডিবাগে, ধ্বংসাবশেষ সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের বাসভবন, নগর পঞ্চায়েত সভাপতির বাসভবন এবং বেশ কয়েকটি বাড়িতে প্রবেশ করে, যার ফলে অনেক বাইক এবং যানবাহন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। অবিরাম বৃষ্টিপাতের মধ্যে আতঙ্কে স্থানীয়রা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন।
এদিকে, আবহাওয়া দফতর উত্তরাখণ্ডে ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করেছে। আগামী ২৪ ঘন্টায় দেরাদুন, তেহরি, পৌরি গড়ওয়াল, উত্তরকাশী, চামোলি, রুদ্রপ্রয়াগ, নৈনিতাল, আলমোড়া এবং উধম সিং নগরের বিভিন্ন স্থানে যেমন কোটদ্বার, ঋষিকেশ, গঙ্গোত্রী, কাশীপুর, কেদারনাথ, যোশীমঠ, মুসৌরি, মুন্স্যারি, লোহাঘাট, রানিক্ষেত, খাতিমা এবং সংলগ্ন এলাকায় বজ্রপাত এবং অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে। দুর্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে, চামোলি জেলা প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শনিবার থারালি তহসিলের সমস্ত স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি চামোলি জেলার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং মেঘ ভাঙনের ফলে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিয়েছেন।
দুর্যোগে গভীর শোক প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী সকল জনপ্রতিনিধিদের ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করেছেন। এর পাশাপাশি, তিনি স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তাঁকে ঘটনাস্থলে থেকে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান দেখভাল করার পরামর্শ দিয়েছেন।
