নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীকে তীব্র আক্রমণ করল বিজেপি। পদ্ম শিবিরের দাবি, রাহুল ‘মিথ্যাভাষণের রোগে আক্রান্ত’।
শনিবার বিজেপি মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, “নিজের রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করতে রাহুল গাঁধী সত্যকে বিকৃত করেছেন। এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যকে নিজের সুবিধামতো ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। এবার দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রপতিকেও নিজের রাজনীতির হাতিয়ার করছেন।”
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী’ কাজের অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে শুক্রবার রাত ৮টায় রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় ‘ইন্ডিয়া’ জোট। প্রতিনিধি দলে রাহুল গাঁধী ছাড়াও ছিলেন মল্লিকার্জুন খড়্গে, প্রিয়াঙ্কা গাঁধী বঢ়রা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএমের এমএ বেবি, সিপিআইয়ের ডি রাজা, ওমর আবদুল্লা, তেজস্বী যাদব, মনোজ ঝা, সুপ্রিয়া সুলে, থোল তিরুমাবলবন ও রাজীব রায়।
বৈঠকের পর বেরিয়ে রাহুল ও মমতা দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি তাঁদের ভোটচুরির অভিযোগ উড়িয়ে দেননি, বরং মন দিয়ে শুনেছেন এবং তথ্যপ্রমাণ চেয়েছেন। রাহুল বলেন, “আমরা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমার ভারতের গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করেছেন। রাষ্ট্রপতি আমাদের বক্তব্য খণ্ডন করেননি, কোনও পাল্টা যুক্তি দেননি।” তিনি আরও জানান, সোমবার তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেবেন। সমাজমাধ্যমে রাহুল লেখেন, “ভোটচুরির অভিযোগ রাষ্ট্রপতি খণ্ডন করেননি, এতে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম।”
এই মন্তব্যের পাল্টা সুধাংশু বলেন, “রাহুল মিথ্যাচার করছেন, সব সীমা লঙ্ঘন করেছেন। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর নেতৃত্বে বিরোধীরা ভিত্তিহীন অভিযোগ ও বিক্ষোভ করছে। রাষ্ট্রপতি বিরোধীদের দাবি মেনে নিয়েছেন বলেও উদ্ভট দাবি তোলা হচ্ছে।”