ওঙ্কার ডেস্কঃ ঋতুচক্রে ৬টি ঋতু হলেও রাজ্যে মূলত অনুভূত হয় ৩ টি ঋতু। গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত। গ্রীষ্ম প্রধান দেশ আমাদের। তাই গ্রীষ্মটা একটু বেশিই অনুভূত হয়, আর তারপরেই আসে বর্ষা। এবছর বর্ষা যেন অন্যান্য সব ঋতুর সঙ্গেই জোট বেঁধেছিল। দীর্ঘ প্রায় বেশ কয়েকমাস ধরেই অঝোর ধারা নেমেছিল গোটা রাজ্যে। কলকাতা ও তার সংলগ্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে জনজীবন প্রায় থমকে গেছিল ঠিক দুর্গাপুজোর আগেই। আর দুর্গাপুজোর ঠিক পরেই উত্তরবঙ্গ দেখেছিল বন্যার ভয়ানক রূপ। বর্ষার তান্ডবে রীতিমতো জেরবার হয়ে পড়েছিল রাজ্যবাসীর জীবন। আবহাওয়া দতফরের পূর্বাভাসকে বারবার বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিনের পর দিন ধরে তান্ডব চালিয়েছে এ বছরের বর্ষা। তবে এবার শুধু হাওয়া অফিস নয়, প্রকৃতিও জানান দিয়েছে যে রাজ্য থেকে বিদায় নিয়েছে বর্ষা। মেঘলা আকাশের ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরেছে রোদের ঝলক।
আবহাওয়াবিদদের মতে, গত কয়েকদিন ধরেই দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার তাপমাত্রা নামতে শুরু করেছে। কলকাতা , হাওড়া, হুগলি, মেদিনীপুর থেকে শুরু করে বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া জেলাগুলিতে সকালে ও রাতে বাতাসে ঠান্ডার আমেজ। তবে এখনই জাঁকিয়ে শীত পড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানালো হাওয়া অফিস। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে বা নভেম্বরের প্রথম দিকে তাপমাত্রা আরও কিছুটা নামতে পারে বলেই খবর।
পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দক্ষিণবঙ্গে আপাতত সেই সম্ভাবনা নেই। ধীরে ধীরে সকালের দিকে কুয়াশা দেখা দিতে শুরু করবে উত্তরবঙ্গে। পাশাপাশি নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, ও উত্তর ২৪ পরগনার গ্রামীণ এলাকায় কুয়াশার প্রভাব বেশি দেখা দিতে পারে।
তবে এর মাঝেই ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রুকুটি। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া গবেষণা মডেলগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য তারিখ ২৭ অক্টোবর। এর মধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মান্যক সংস্থা জানিয়েছে, ২৫ অক্টোবর দক্ষিণ আন্দামান সাগরের ইন্দিরা পয়েন্টের কাছে বঙ্গোপসাগরে একটি অতিশক্তিশালী নিম্নচাপ তৈরি হবে। ২৭ অক্টোবর সকালে এই নিম্নচাপ তামিলনাড়ু উপকূলের কাছে পৌঁছাবে। এরপর বাতাসের অভিমুখ পরিবর্তিত হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি তামিলনাড়ুর উপকূল থেকে পশ্চিম দিকে পুদুচেরি উপকূল বরাবর আরব সাগরের দিকে চলে যেতে পারে। আবার অন্য সম্ভাবনা হল, এটি তামিলনাড়ু উপকূল থেকে বঙ্গোপসাগর বরাবর অন্ধ্র ও ওড়িশার উপকূল, অর্থাৎ গোপালপুরের কাছাকাছি ল্যান্ডফল করতে পারে। তবে জানা গেছে, এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের গঠন এবং শক্তি সম্পূর্ণভাবে স্থির না হওয়ায় এর চূড়ান্ত পথ ও প্রভাব নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, এবারের শীত কতটা জোরদার হবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু জানাচ্ছে না হাওয়া অফিস। তবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এবারের শীত স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি পরতে পারে। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় তাপমাত্রা রেকর্ড নীচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্ষার বিদায়ের সঙ্গেই শুরু হয়ে গেল শীতের কড়ানাড়া। এখন শুধু অপেক্ষা, কবে রাজ্য মুড়বে কম্বলের আড়ালে।
ভিডিও দেখুন-
