ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে বহুতল আবাসনগুলিতে বাড়তি ভোটকেন্দ্র তৈরি নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে টানাপড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। কমিশনের সাম্প্রতিক চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বহু জনবহুল হাউজিং কমপ্লেক্সে ভোটার সংখ্যা নির্দিষ্ট মানদণ্ডে পড়লেও সেখানকার পরিস্থিতি সমীক্ষা করে নতুন বুথ তৈরির কোনও প্রস্তাবই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়নি। কমিশনের দৃষ্টিতে এটি গুরুতর গাফিলতি, কারণ আইন অনুযায়ী ভোটারদের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বুথ বাড়ানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদেরই।
কমিশনের নির্দেশ অনুসারে, বড় আবাসন প্রকল্প বা গেটেড কমিউনিটিগুলিতে যদি অন্তত কয়েকশো বাড়ি বা পর্যাপ্ত সংখ্যক ভোটার থাকে, তবে সেখানে বুথ তৈরির সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু রাজ্য থেকে মাত্র দু’টি প্রস্তাব পৌঁছেছে, যা দেখে কমিশন অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। অভিযোগ, বিভিন্ন জেলার কর্তারা এ ধরনের সমীক্ষা না করেই আগের ব্যবস্থাকেই যথেষ্ট ধরে নিয়ে নীরব থেকেছেন। ফলে বহু জায়গায় ভোটারদের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে বাইরে গিয়ে ভোট দিতে হবে, যা উচ্চবয়স্ক বা শারীরিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্যও সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে কমিশন তড়িঘড়ি নতুন করে সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রস্তাব জমা দেওয়ার কথা বলেছে। নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কমিশনের যুক্তি, শহুরে এলাকায় দ্রুত হারে বেড়ে চলা উঁচু আবাসনে একই ভবনের নাগরিকদের জন্য নিকটবর্তী বুথ থাকা জরুরি। এতে ভোটদানে অংশগ্রহণ বাড়বে এবং জনসমাগমের চাপও উপযুক্তভাবে ভাগ হয়ে যাবে।
তবে এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনের একাংশ ও আবাসন কমপ্লেক্সের বাসিন্দাদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বেসরকারি আবাসনের ভেতরে ভোটকেন্দ্র হলে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং বাহিরের লোকজনের প্রবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। অন্যদিকে, সরকারি প্রাঙ্গণে বুথ রাখার প্রচলিত রীতি ভেঙে বেসরকারি কমপ্লেক্সে ভোট কেন্দ্র স্থানান্তর করলে ভোটদানের ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হতে পারে বলেও মত উঠেছে।
জেলা প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও, অন্তর্দৃষ্টিতে অনেকে স্বীকার করছেন যে আবাসনগুলির অনুমতি পাওয়া এবং নিরাপত্তার সমস্ত শর্ত পূরণ করা সহজ নয়। ফলে অনেক জেলায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটারদের সুবিধাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, তাই প্রয়োজনে অতিরিক্ত বুথ তৈরি করতেই হবে।
এই টানাপড়েন চলতে চলতেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সমীক্ষা শুরু হয়েছে। বড় বড় আবাসন সংস্থাগুলির অভ্যন্তরে খালি কমিউনিটি হল বা বহুমুখী কক্ষে বুথ স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও বাসিন্দারা সহযোগিতা করছেন, কোথাও আবার আপত্তি উঠে আসছে। ভোটের আগে আবাসনে বুথ গঠনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্যে প্রশাসনিক অস্থিরতা বাড়ছে। কমিশনের কড়া অবস্থান এবং জেলার ধীরগতির কাজের মধ্যে দূরত্ব কমবে কি না, তা এখন রাজ্যের নির্বাচনী প্রস্তুতির দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
