নিজস্ব সংবাদদাতা : বাংলায় ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাত নতুন মোড় নিল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে শর্ত দিলেন তাতে জাতীয় রাজনীতিতে নয়া উত্তাপ ছড়াতে চলেছে। অভিষেক বলেছেন, বাংলায় ভোটার তালিকায় সংশোধন হলে আপত্তি নেই যদি তার আগে লোকসভা ভেঙে দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, যে ভোটার তালিকায় লোকসভা নির্বাচন হল, দেশে সরকার গড়লো তা দিয়ে কেন বাংলার নির্বাচন হবে না ? এই ভোটার তালিকায় যদি ভুয়ো ভোটার থাকে তাহলে সেই তালিকা অনুযায়ী ভোটে জিতে কেন্দ্রে যে সরকার গড়লো তা ভেঙে দেওয়া হোক। তার পর গোটা দেশে এক সঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন করলে তৃণমূলের আপত্তি নেই।
অভিষেকের যুক্তি, মাত্র এক বছর আগে লোকসভা ভোটের সময়ে এই ভোটার তালিকাতেই ভোট হয়েছে। এখন যদি সেটা ভুল হয় তাহলে তখন কী করে ঠিক থাকে ! তার মানে যে ভোটার তালিকার উপর ভোট করে নরেন্দ্র মোদী জিতে প্রধানমন্ত্রী হলেন, সরকার বানালেন, অমিত শাহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হলেন, সেটা ঠিক। তার পর বাংলায় ভোট আসতেই সেই তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল ?
অভিষেকের কথায়, এই ভোটার তালিকা যদি ভুলে ভরা থাকে, তাহলে নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনও বৈধ নয়। কেন্দ্রের সরকারও বৈধ নয়। তাই স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন যদি করতেই হয়, তবে আগে লোকসভা ভেঙে দেওয়া হোক। তার পর গোটা দেশে নিবিড় সংশোধন হোক ভোটার তালিকায়। এতে কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু বাংলার ভোটার তালিকা ভুল আর গুজরাতের ঠিক, বিহারের ভোটার তালিকা ভুল উত্তরপ্রদেশের ঠিক—এটা চলবে না।
এই ইস্যুতে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধীরা একজোট হয়েছেন। তৃণমূলের মতোই কংগ্রেস, সিপিএম, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, শিবসেনা উদ্ধব শিবির, আরজেডি-র মতো বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন তথা বিশেষ সংশোধনে আপত্তি জানাচ্ছে। মঙ্গলবার এই ইস্যুতে প্রায় ৩০০ জন বিরোধী সাংসদ সংসদ ভবন থেকে মিছিল করে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত যাওয়ার জন্য রওনা দেন। রাস্তায় তাঁদের পুলিশ আটকায়। সাঙ্গসদদের পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়। এই নিয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড বাধে দিল্লিতে।
অভিষেক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার যেভাবে সাংসদদের বাধা দেওয়া হয়েছে তাতে বোঝা যাচ্ছে কমিশন ভয় পেয়েছে। নইলে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ঠেকাতে এভাবে ব্যারিকেড লাগিয়ে ধাক্কাধাক্কি করা হত না। তৃণমূল মহিলা সাংসদরাও এতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জানান “এ তো সবে শুরু। এরপর এক লক্ষ লোক নিয়ে নির্বাচন কমিশন দফতর ঘেরাও করা হবে।”
একইসঙ্গে অভিষেকের গলায় উঠে এলো রাহুল গান্ধীর সুর। তিনি বলেন,, কর্নাটকে দেখা গেছে কীভাবে ভোটার তালিকায় ডুপ্লিকেট ভোটার রয়েছে। হাজার হাজার ভোটারের ঠিকানা ভুয়ো। একই ভোটারের নাম চার জায়গায় রয়েছে। আবার মহারাষ্ট্রে দেখা গেছে, লোকসভা ভোটের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই ৪০ লক্ষ ভোটার বেড়ে গেছে। তার পর মহারাষ্ট্রে জিতেছে বিজেপি। ভোটার তালিকা নিয়ে বিজেপির এই খেলা ধরা পড়ে গেছে বলে কটাক্ষ করেন অভিষেক।
