ওঙ্কার ডেস্ক: মালদহ বিমানবন্দর সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা মালদহে পূর্ণাঙ্গ বিমান পরিষেবা চালুর দাবি উঠছিল। সেই লক্ষ্যেই বিমানবন্দরের পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য জমি সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকরা সম্ভাব্য সম্প্রসারণের এলাকা চিহ্নিত করতে মাঠপর্যায়ে সমীক্ষা চালিয়েছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে মালদহ বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য বড় যাত্রীবাহী বিমানের ওঠানামার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই রানওয়ে প্রায় ১,১৫০ মিটার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রসারণের পর বড় আকারের যাত্রীবাহী বিমান অবতরণ ও উড্ডয়নের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে নিয়মিত বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবা চালুর সম্ভাবনাও অনেকটাই উজ্জ্বল হবে। প্রাথমিক সমীক্ষায় দেখা হয়েছে, রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং বিমানবন্দরের অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তুলতে কতটা জমির প্রয়োজন হবে। প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৫৮.৮৫ একর জমি লাগতে পারে। সমীক্ষার সময় জমির বর্তমান অবস্থা, মালিকানা, বসতি, কৃষিজমি এবং সম্ভাব্য অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ও খতিয়ে দেখা হয়েছে। আগামী দিনে বিস্তারিত কারিগরি সমীক্ষা ও জমির মূল্যায়নের পর প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে এগোনো হবে।
জেলা প্রশাসনের মতে, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে মালদহের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে আকাশপথে দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হবে। পাশাপাশি জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহণ, পর্যটন এবং শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে মালদহের বিখ্যাত আম, রেশম এবং অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মালদহ বিমানবন্দরের উন্নয়নের পরিকল্পনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং নিয়মিত বিমান পরিষেবা চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন জেলার বাসিন্দারা। অতীতে একাধিকবার আলোচনা হলেও বিভিন্ন কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন এগোয়নি। রাজ্যে পালা বদলের পর শুভেন্দু অধিকারীর সরকার রাজ্যের পরিবহণ পরিকাঠামোকে আরও উন্নত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেইমত জমি সমীক্ষার কাজ শুরু হওয়ায় বহুদিনের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হল বলে মনে করছে প্রশাসন।