ওঙ্কার ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে একাধিকবার বং সফরে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। বর্তমানে দুই দিনের বং সফরে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উত্তর চব্বিশ পরগনার ব্যারাকপুরে সভা করে তিনি যাবেন উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে। এদিন ব্যারাকপুরের সভায় তিনি রাজতের শাসক দলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, “তৃণমূল সরকার মা আমটি মানুষ বলে ক্ষমতায় এসে কোন কিছুই রক্ষা করতে অক্ষম”। এছাড়াও আনন্দপুরে অগ্নিকান্ড নিয়েও পুর্ণ তদন্তের দাবি তুলেছেন শাহ।
এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা জমায়েত হতে শুরু করেন। দলের পতাকা, ব্যানার এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সভাস্থল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন ছিল বিপুল পুলিশ বাহিনী, ব্যারিকেড ও নজরদারি ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হয়। দুপুরের পর মঞ্চে পৌঁছন অমিত শাহ। তাঁকে স্বাগত জানান রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। উপস্থিত ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, সাংসদ শান্তনু ঠাকুরসহ একাধিক জেলা ও রাজ্যস্তরের নেতা। মূলত দলীয় সংগঠনকে চাঙ্গা করা এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েই এই কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা যায়।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ রাজ্যে বিজেপিকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ বর্তমান প্রশাসনের কাজে অসন্তুষ্ট। আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ এবং কর্মসংস্থানের মতো ইস্যু তুলে ধরে তিনি রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি বুথস্তর থেকে সংগঠনকে মজবুত করার নির্দেশ দেন কর্মীদের। প্রত্যেক কর্মীকে মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দলের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সভায় যোগ দিতে উত্তর ২৪ পরগনা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে বহু কর্মী আসেন। তাদের সঙ্গে আলাদা করে সাংগঠনিক বৈঠকও করেন দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। নির্বাচনের আগে কৌশল নির্ধারণ, প্রচার পরিকল্পনা এবং স্থানীয় স্তরে শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে খবর। এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে ব্যারাকপুর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে ধরা হয়। তাই এই অঞ্চল থেকেই নির্বাচনী লড়াইয়ের বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
