ওঙ্কার ডেস্ক: বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তদন্তে নেমে প্রথমে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। এরপর তদন্তের অগ্রগতিতে দিবাকর সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবারেই তাদের আদালতে পেশ করা হয়। সোমবার আরও এক অভিযুক্ত তথা মূল অপরাধী আনন্দ সর্দারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে বুধবার বারুইপুর আদালতে তোলা হবে।
তদন্তে একাধিক গুরুতর অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি পুলিশের। সেই ভিত্তিতে মামলায় একাধিক কঠোর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৬৫ (ধর্ষণ), ধারা ৭০(২) (গণধর্ষণ), ধারা ১০৩(১) (খুন), ধারা ২৩৮ (তথ্য-প্রমাণ লোপাট), ধারা ৬১ (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ধারা ১৩৭(২) ও ১৪০(২) (নাবালিকাকে অপহরণ) প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি পকসো আইনের ধারা ৬-ও যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দারকে মঙ্গলবার বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়।
জানা গেছে শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ঐ নাবালিকা। তদন্তে নেমে বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা যায় চার জনের সঙ্গে রয়েছে সে। সন্ধ্যে অবধি বাড়ি না ফেরায় নিখোঁজের মামলা করে পরিবার। প্রথমে প্রভাস মন্ডলকে আটক করে স্থানীয়রা। তাকে জেরা করতেই সব অপরাধ এবং যুক্তদের নাম স্বীকার করে নেয় এবং দেহের স্থান জানিয়ে দেয় সে। উদ্ধার করে দেহটিকে নিয়ে সড়কে অবরোধ করে স্থানীয়রা। এলাকায় ব্যাপক ভাংচুর করে। ট্রেন লাইন আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয়রা। জনরোষে পরে নিহত হয় অভিযুক্তদের মধ্যে ইন্দ্রজিৎ তাঁতি নামের এক ব্যাক্তি। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এলাকায় পুলিশ, বাহিনী মোতায়েন করা হয়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয় রবিবার।
ময়ানাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। দেহে একাধিক স্থানে কামড়ানোর দাগ রয়েছে। মৃত্যুর আগে নির্যাতিতার উপর পাশবিক অত্যাচারের নিদর্শন রয়েছে তাঁর সারা শরীর জুড়ে, একথা উল্লেখ রয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে। আরও জান গেছে ধর্ষণের পর নাবালিকার মাথায় জোড়ে আঘাত করা হয়। কোন ভারি বস্তু বা কোন শক্ত স্থানে তাঁর মাথায় মারা হয় বলে জানা গিয়েছে ময়ান্তদন্তের রিপোর্ট থেকে। ক্ষতস্থান থেকে ব্যপক রক্তক্ষরণ হয় এবং সংজ্ঞা হারায় সে বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। অচেতন অবস্থায় তাকে পুকুরের জলে ফেলা দেওয়া হয়। নির্যাতিতার ফুসফুস, পাকস্থলীতে জল ঢুকে প্রে। জলে ডুবেই মৃত্যু বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।
আদালতে সরকারি আইনজীবী জানান, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং বিশেষ গুরুত্বের মামলা। তদন্তের স্বার্থে এখনও গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ, ফরেন্সিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তদন্ত বাকি রয়েছে। পাশাপাশি তথ্য-প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সেই কারণেই দুই অভিযুক্তকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। আদালতে তদন্তের অগ্রগতি এবং মামলার গুরুত্ব তুলে ধরে পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব বৈজ্ঞানিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।