ওঙ্কার ডেস্ক: ২০২৭ সালের জনগণনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ, নাগরিকত্ব এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ বছরের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে অথবা যাঁদের নাগরিকত্ব বা পরিচয় সংক্রান্ত বিষয় ফরেনার্স ট্রাইবুনাল বা সংশ্লিষ্ট আইনি কর্তৃপক্ষের বিবেচনাধীন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও জনগণনার জন্য অনলাইন সেল্ফ এনুমারেশনের সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ তাঁরা নির্ধারিত পোর্টালে নিজেদের তথ্য জমা দিতে পারবেন।
তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, সেল্ফ এনুমারেশনের তথ্য জমা দিলেই সেই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জনগণনার চূড়ান্ত নথিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, নথিপত্র এবং আইনি অবস্থান প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হবে। যদি যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয় যে তিনি বৈধ ভারতীয় নাগরিক এবং প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ করেছেন, তাহলে তাঁর তথ্য জনগণনার চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, যাঁদের মামলা এখনও বিচারাধীন থাকবে বা যাঁদের পরিচয় নিয়ে আইনি নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁদের আবেদনও সেই আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের উপর নির্ভর করবে। তাঁর দাবি, জনগণনা কোনও নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া নয়। এটি দেশের জনসংখ্যা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহের একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থা। তাই জনগণনার মাধ্যমে কারও নাগরিকত্ব নির্ধারিত হবে না, বরং বিদ্যমান আইন ও নথির ভিত্তিতেই তথ্য যাচাই করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলার জনবিন্যাসে পরিবর্তন এসেছে। সেই কারণেই জনগণনার সময় তথ্য যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। কিন্তু তিনি ভারতে শরনার্থীদের উদ্দেশ্যে জানান তাঁদের দেশের বৈধ নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া শুরু করার আগে যথাযথ তথ্য বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিধান্ত নেওয়া হবে।