ওঙ্কার ডেস্কঃ তৃণমূলের উত্থানের পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও মুকুল রায়ের অবদান অনস্বীকার্য। সেকথা স্বীকার করেন তৃণমূলের তাবড় তাবড় নেতারা। মুকুল রায়ের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বহু নেতা মন্ত্রীরা মুকুল রায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের মন্তব্য খানিক বাকাই লেগেছে সকলের। দিলীপ ঘোষের সঙ্গে মুকুলের সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না সেভাবে। সোমবার মুকুলের মৃত্যুতে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বাংলার রাজনীতিতে মুকুল রায় খুবই চর্চিত ছিলেন। তৃণমূলকে দাঁড় করানোর জন্য তাঁর বিরাট বড় যোগদান আছে। বিজেপিতেও উনি সার্ভিস দিয়েছেন। এক জন বড় রাজনীতিক চলে গেছেন, খুব কষ্ট পেয়েছেন অনেক দিন ধরে…।”
‘বিজেপিতে উনি সার্ভিস দিয়েছেন—’ এই কথাটাই অনেকের কাজে বেজেছে। এমনকি বিজেপির নেতাদেরও। কারণ, বাংলায় বিজেপিকে বড় জয়ের পথ দেখানোর অন্যতম কারিগর ছিলেন মুকুল রায়। তাঁর ক্ষুরধার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার কারণেই বাংলায় বিজেপির ভিত শক্ত হয়েছে। উনিশের লোকসভা ভোটে বাংলায় ৪২ টা আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। এবং সেটাই ছিল পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের মাইলফলক। পরের বিধানসভায় ৭৭টি আসনে জিতেছিল বিজেপি।
২০১৭ সালে মুকুল রায় যখন বিজেপিতে যোগ দেন, তখন দিলীপ ঘোষ ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। দিলীপ মুকুল রায়কে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করতেন না। কিন্তু অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা ছিল। অমিত শাহর সুপারিশেই সর্বভারতীয় বিজেপিতে সহ-সভাপতি হয়েছিলেন মুকুল রায়। মুকুল রায়ের কৌশলের উপর ভরসা করেছিলেন অমিত শাহ।
সৌমিত্র খাঁকে তৃণমূল থেকে নিয়ে এসে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর লোকসভা আসন থেকে জেতানো, নিশীথ প্রামাণিককে বিজেপিতে নিয়ে আসা, খগেন মুর্মুকে সিপিএম থেকে নিয়ে এসে মালদহ উত্তর আসনে প্রার্থী করা—এ সবের নেপথ্যে ছিলেন মুকুল। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সমন্বয় রাখা, সেই অনুযায়ী ঘুঁটি সাজানো সবটাই তিনি করতেন এলগিন রোডে একটি বহুতল আবাসনের ফ্ল্যাটে বসে। কিন্তু তারপর কোথাও মুকুল রায় ফিকে হতে থাকেন বঙ্গ বিজেপিতে। বস্তুত রাজ্য বিজেপিতে দিলীপ ঘোষের জমানাতেই মুকুল রায় ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। তারপর ২০২১ সালে আবার তৃণমূলে ঘরওয়াপাস কুণাল ঘোষ হোক বা দিলীপ ঘোষ, রাজনীতির ময়দানে মনোমালিণ্য বা যাই হোক না কেন, বাংলার রাজনীতিতে বর্তমান শাসক বিরোধী দুই দলেই যে মুকুলের বড় অবদান আছে, তা বলাই বাহুল্য।
