ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে মানব পাচার চক্রের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ব্যক্তি এক আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যেখানে ভারতীয় যুবকদের বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠাত। পরে তাঁদের অনেককেই প্রতারণার শিকার হতে হতো এবং অমানবিক পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চালানোর পর দুর্গাপুরে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এনআইএ সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্ভাব্য কর্মপ্রার্থীদের খুঁজে বের করা, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ এবং গোটা প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হতো বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। বিদেশে পৌঁছানোর পর বাস্তবে তাঁদের প্রতিশ্রুত কাজ বা বেতন দেওয়া হতো না। অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া, জোর করে শ্রম করানো এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মতো অভিযোগও সামনে এসেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ধৃতের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি, ব্যাংক সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার বাজেয়াপ্ত করেছে এনআইএ। তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া এই নথি ও ইলেকট্রনিক তথ্য বিশ্লেষণ করে মানব পাচার চক্রের আর্থিক লেনদেন, বিদেশে থাকা সহযোগীদের পরিচয় এবং গোটা নেটওয়ার্কের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।
এনআইএ-র দাবি, এই চক্রটি শুধুমাত্র একটি রাজ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মপ্রত্যাশীদের টার্গেট করা হতো। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগের কথা বলে তাঁদের প্রলুব্ধ করা হলেও বাস্তবে অনেকেই প্রতারণার শিকার হন। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও ব্যক্তি বা সংগঠনের খোঁজে তদন্ত চালানো হচ্ছে। ধৃতকে আদালতে পেশ করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের বিশ্বাস, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের আরও সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানকারী সহযোগীদের সঙ্গেও এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।