ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার ঐতিহাসিক ‘সুধা সদন’ থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত বাসভবন হিসেবে পরিচিত এই বাড়িতে এমন ঘটনা সামনে আসায় এলাকাজুড়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং দেহটি উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম শাকিল। তাঁর বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তিনি ঢাকার রায়েরবাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী আধিকারিকরা। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শাকিল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন বলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি। পারিবারিক অশান্তির জেরে কয়েক মাস আগেই তাঁর স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে বাপের বাড়িতে চলে যান। এই ঘটনার পর শাকিলের স্ত্রী থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পরিচিতদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে, যাতে মৃত্যুর আগে তাঁর গতিবিধি এবং মানসিক অবস্থার সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যায়।
তদন্তকারীদের মতে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। সেই কারণে সমস্ত সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। পাশাপাশি সুধা সদন এবং তার আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ধানমন্ডির ‘সুধা সদন’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে এই বাড়ির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণেই এই বাসভবন থেকে এক যুবকের দেহ উদ্ধারের ঘটনাটি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিতে নারাজ পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রয়েছে।