ওঙ্কার ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের ডাকা শুনানিতে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর আত্মবিশ্বাসী সুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, আইনের আদালতের পাশাপাশি মানুষের আদালতেও জয়ী হবেন তাঁরা। কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ঋতব্রত পক্ষ যে অভিযোগ তুলেছে, তার কোনও আইনি ভিত্তি নেই। তাঁদের পক্ষ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য কমিশনের সামনে পেশ করা হয়েছে এবং কমিশন নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি বিবেচনা করবে বলেই আশা প্রকাশ করেন তিনি। এই সঙ্গে তিনি দাবি করেন ঋতব্রতদের সঙ্গে বাকি বিজয়ী বিধায়কেরা বিজেপির ইশারায় ওঠা বসা করছে।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর ব্যাপকভাবে ধরাশায়ী তৃণমূল। বিজয়ী ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কদের মধ্যে ৬০ জনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে। দল দুটি ভাগে ভেঙ্গে কালীঘাট তৃণমূল বনাম ঋতব্রত-পন্থী আসল তৃণমূলে বিভক্ত হয়ে যায়। দলের প্রতীক, নাম এবং ফান্ডের দাবি তোলে মমতা বিরোধী তৃণমূল। এই দাবি নিয়ে তারা হাজির হয় নির্বাচন কমিশনের কাছে। সোমবার মমতা ঘনিষ্টেরা নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের যাবতীয় নথি, সংশ্লিষ্ট প্রমাণ পেশ করে বলে জানায় তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান এই বিদ্রোহীদের তিনি আদালতেও হারাবেন পাশাপাশি জনতার দরবারেও হারাবেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, গোটা বিষয়টি শুধুমাত্র আইনি লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের সমর্থন এবং রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্নও। তাঁর কথায়, আদালতে যেমন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে লড়াই চলবে, তেমনই মানুষের মধ্যেও সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, ২০২২ সালে কমিশনের নিয়ম অনুসরণ করেই দলের চেয়ারপার্সেন হিসাবে জয়ী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঠিক করে দেওয়া দলের প্রতীকেই লড়েছেন এবং বিধায়ক হিসাবে জয়ী হয়েছেন। এখন তাকেই অবজ্ঞা করা অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের আইনকে অমান্য করা বলে দাবি করেন তিনি। তিনি এও জানান, এর জেরে তাদের প্রত্যেকের বিধায়ক পদ খারিজ হয়ে যেতে পারে। তাই আইনের আদালত এবং জনতার আদালত দুই ক্ষেত্রেই তাঁদের জয় নিশ্চিত বলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন। কমিশন তথ্য-প্রমাণ বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেবে বলে তাঁর বিশ্বাস। কমিশনের সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, প্রয়োজনে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শেষ পর্যন্ত মানুষের সমর্থনই সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সেই সমর্থন তাঁদের পক্ষেই রয়েছে। তাই এই লড়াইয়ে পরাজয়ের কোনও প্রশ্নই ওঠে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।