ওঙ্কার ডেস্ক: ৪ ঠা মে-র পর ভেঙে খান খান হয়ে গেছে ২৮ বছরের পুরনো একটি দল তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভার অন্দরেই ভেঙে দুই টুকরো টুকরো হয়ে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনে সাড়া দেয়নি কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্তবর্তী নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি। সিঙ্গল বেঞ্চের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গেলেন শোভনদেব। শুক্রবার বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ওই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসাবে বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিযুক্ত করেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। সেই সময়ে নয়া বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান তাদের দল সম্পূর্ণ ভাবে আদি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের মূল নেত্রি হিসাবে মেনে চলবে। তাঁর ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে মামলা করেন শোভনদেব। তাঁর বক্তব্য, স্পিকার নিয়ম মেনে কাজ করেননি। তাই বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগে ওই সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দিক হাই কোর্ট। ইতিমধ্যে শোভনদেবের মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ জানায়, আপাতত ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা থাকবেন। স্পিকারের সিদ্ধান্তে এখনই হস্তক্ষেপ নয়। শোভনদেবের অন্তর্বর্তী নির্দেশের আবেদন খারিজ করা হল। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষ হলফনামা এবং পাল্টা যুক্তি দেবেন। আগামী ২৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি। এই অবস্থায় সিঙ্গল বেঞ্চে সুরাহা না পেয়ে এ বার ডিভিশন বেঞ্চে গেল তৃণমূল। পরবর্তী বকালে এই বিষয়ে শোভনদেবের বক্তব্য, বিরোধী দলনেতা কে হবেন তা ঠিক করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের। পরিষদীয় দল বা বিক্ষুব্ধ বিধায়করা বিরোধী দলনেতা ঠিক করতে পারেন না। স্পিকারের যুক্তি, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও আইন নেই। পশ্চিমবঙ্গে রীতি মেনে বিরোধী দলের প্রস্তাব মেনে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন হয়ে এসেছে। কিন্তু এখন বিরোধী দলের মধ্যেই দু’টি গোষ্ঠী। এই অবস্থায় রাজনৈতিক দল দেখে নয় বরং, বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের মতামতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।