ওঙ্কার ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার পরিযায়ী শ্রমিক আনিসূর শেখ হত্যা কান্ডে ইতিমধ্যেই আগুন জ্বলছে এলাকায়। এই সময় ফের আর একজন পরিযায়ী শ্রমিক নিগ্রহের ঘটনা সামনে আসতেই বিক্ষোভ আরও ভয়াবহ মোড় নেওয়া শুরু করেছে মুর্শিদাবাদে।
স্থানীয় মানুষের বিক্ষোভে আবার অবরুদ্ধ হল জাতীয় সড়ক ১২। রবিবার সকাল থেকেই বেলডাঙার বারুয়া মোড় এলাকায় জমায়েত করেন শতাধিক বাসিন্দা। ধীরে ধীরে সেই জমায়েত বিক্ষোভে পরিণত হয়। টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের গুঁড়ি ফেলে জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। ফলে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে পড়ে পণ্যবাহী লরি, বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন। চরম ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।
বিক্ষোভের জেরে রেল চলাচলেও প্রভাব পড়ে। কৃষ্ণনগর-লালগোলা শাখায় বেশ কিছু সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উত্তেজিত জনতা রেলগেট ও লেভেল ক্রসিংয়ের কিছু অংশ ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও রেল পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়া এলাকার এক পরিযায়ী শ্রমিকের উপর নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসতেই নতুন করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। তার আগেও একই এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার সঠিক তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে এর আগেও জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়েছিল। অভিযোগ, প্রশাসনের তরফে আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন উদাসীন। একের পর এক ঘটনার পরেও যদি কড়া ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। দীর্ঘ আলোচনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের আশ্বাসে ধীরে ধীরে অবরোধ ওঠে। তবে এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি রয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং নতুন করে অশান্তি এড়াতে সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
