নিলয় ভট্টাচার্য, নদিয়া: নদিয়া শান্তিপুর এলাকায় সরস্বতী প্রতিমা চুরির অভিযোগ উঠলো এক বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুর থানার বেলঘরিয়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলঘড়িয়া গ্রামে। ওই এলাকায় মহিলা পরিচালিত একটি সরস্বতী পূজার মণ্ডপ থেকে প্রতিমা চুরি করে পালানোর চেষ্টা করে এক যুবক। তবে স্থানীয় মানুষজনদের তৎপরতায় তা করতে ব্যর্থ হয় ঐ ব্যক্তি। পরে তাঁকে আটক করে রাখে স্থানীয়রা। এই বিষয় তৃণমূলের কাছে পৌঁছাতেই ব্যপক সমালোচন করা হয়।
অভিযোগ, শুক্রবার রাত আনুমানিক বারোটা নাগাদ সুবীর বিশ্বাস নামের ওই যুবক মণ্ডপে ঢুকে সরস্বতী প্রতিমা নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আশপাশের মানুষের নজরে পড়তেই সেই প্রতিমাটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে তাকে আটক করলে বিজেপি কর্মী সুবীর স্থানীয় বাসিন্দা দের জানায় যে সে মন্ডপ থেকে কুকুর তাড়াতে এসেছিল। পালটা পুজো কমিটির মহিলারা প্রশ্ন করে বসেন, কুকুর তাড়ানোর মনোভাব থাকলে সুবীর তাঁদের দেখে পালিয়ে কেনো গেল। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র শোরগোল সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম সুবীর বিশ্বাস। তিনি বেলঘড়িয়া গ্রামেরই বাসিন্দা। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সুবীর বিশ্বাস ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত। এমনকি সে ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিএলএ-র কাজও করেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এই ঘটনায় প্রতিবাদে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার বেলা বাড়তেই নদিয়ার শান্তিপুর ফুলিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থান বিক্ষোভ করে তৃণমূল। তৃনমূলের দাবি, অভিযুক্ত কে চিহ্নিতকরণ করে পুলিশ কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তির ব্যবস্থা করুক। তাঁদের একাংশের মতে, এই ধরনের ঘটনা বিজেপি বরাবর করে আসছে দেশ জুড়ে। তাঁদের মতে “রাজনৈতিক স্বার্থ চরিচার্থ করার জন্য প্রথমে হিন্দু ধর্মের প্রতিমা ভাংছে, পুজো মন্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত করছে আর তারপর অন্য ধর্মের মানুষের উপর দোষ চাপিয়ে সাম্প্রদায়িক অশান্তির সৃষ্টি করেছে”।
