নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা ; অবাক কান্ড দুই বোনের আধার কার্ডের নাম্বার একই, সরকারি সমস্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি ব্লকের দক্ষিণ রামকৃষ্ণপুর গ্রামের দুই বোন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজলী পাড়ায় রত্নাকর বিজলীর দুই মেয়ে জয়শ্রী বিজলী ও বনশ্রী বিজলী দুই বোনের আধার কার্ডের নাম্বার একই। সরকারের কর্মচারীদের চরম উদাসীনতায় তাদের আধার কার্ড নাম্বার এক আসে প্রায় দশ বছর আগে। দুই বোনের আধার কার্ড এক হয় সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে আজ বঞ্চিত হয়ে আসছে দীর্ঘ ১০ বছর। দুই বোন উচ্চমাধ্যমিকের পর তারা আর কলেজে ভর্তি হতে পারেনি ।
বনশ্রী বিজলী বলেন, “আমি চাই সরকার যাতে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করে দেন আমি এটাই অনুরোধ করব, আমার পড়াশোনা আটকে গেছে আমি আরও পড়তে চাই”।
স্বপ্না বিজলী বনশ্রীর মা জানান, “অনেক কষ্টে বড় মেয়ের বিয়ে দিলেও মেজ মেয়েকে নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছি। প্রায় ১ লক্ষ টাকা খরচ করেও করাতে পারিনি মেয়ের আধারকার্ড। সরকারি অফিস শুধু এই টেবিল থেকে ঐ টেবিল ঘুরিয়েছে, শেষে বলেছে এটা তাদের দফতরের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়”
প্রতিবেশী পার্থ বৈরাগী সরকারের কাছে অনুরোধ করেন, ছোট থেকেই দুই বোন বঞ্ছিত হচ্ছে সব রকম সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে , এসআইআর-এও সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাদের। তাই এদের আধার কার্ড তৈরি করে দিলে পরিবারটি খুব উপকৃত হয়।
দুই বোনের এই আধার সমস্যা নিয়ে কুলপি ব্লকের বিডিওর কাছে সমাধানের রাস্তা জানতে চাইলে তিনি জানান এগুলো সংশোধনের ক্ষমতা তাদের কাছে নেই এগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের পোর্টাল আছে তাদের ব্যাপার। তবুও আগের বিডিওর কাছে অভিযোগের যদি কোন কপি থাকে তাহলে তার কাছে অবশ্যই যেন দেয়। যদি না থাকে নতুন একটা আবেদন তার কাছে করলে এ বিষয়ে উর্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের রাস্তা বের করতে পারবেন।
দুই বোনের কেউই পায়নি তপশিলি স্কলারশিপ, কন্যাশ্রীর টাকা, পাচ্ছে না রেসন সামগ্রী। তৈরি হয়নি ভোটার কার্ড। এমনই এক যন্ত্রণাময় জীবন নিয়ে SIR আবহে দুশ্চিন্তার শেষ নেই বাবা-মায়ের। অভাবের সংসারে বাবা অন্য জায়গায় কাজে গেলেও চিন্তায় আছেন মা। প্রশাসনের কাছে পরিবারের আর্জি অবিলম্বে তাদের এই আধার কার্ড সংশোধন করে দুই বোনের জীবনে সুস্থতা ফিরিয়ে দিক। দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হোক বাবা মা ।
