ওঙ্কার ডেস্ক: সায়নি ঘোষের গলা কেটে আনতে পারলে সেই ব্যাক্তিকে ১ কোটি টাকার পুরস্কার দেওয়া হবে, এমনই বিতির্কিত মন্তব্য করেছেন উত্তরপ্রদেশের সিকন্দারবাদের নগরপালিকার চেয়ারম্যান প্রদীপ দীক্ষিত। ভগবান শিবের বিরুদ্ধে কুরুচিকর এক্স পোষ্ট (সাবেক টুইটার)-এর বিরোধিতা করে এহেন মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা বলে জানা যায়। উল্লেখ্য ২০১৫ সালে রাজনৈতিক জগতে আসার আগে সায়নি ঘোষের এক্স হ্যন্ডেল থেকে হিন্দু ভগবান শিবকে নিয়ে একটি পোষ্টকে কেন্দ্র করে অতীতেও অনেক জলঘোলা হয়েছিল। সেই ঘটনার এক দশক পর এই হুমকি রাজনৈতিক উত্তেজনা বহুগুন বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের সিকন্দরাবাদ নগরপালিকার চেয়ারম্যান তথা বিজেপি নেতা প্রদীপ দীক্ষিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, যিনি সায়নী ঘোষের মাথা কেটে আনতে পারবেন, তাঁকে এক কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। এই মন্তব্য সামনে আসতেই শুরু হয় প্রবল বিতর্ক। যদিও বিজেপি মন্ত্রী দাবি করেছেন এই ভিডিও এআই দ্বারা নির্মিত। উল্লেখ্য ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও তা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র আকার নিয়েছে।
উদ্ধৃত ভিডিও নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে ভয় দেখাতে এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়াতে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। দলের একাংশের দাবি, এই ঘটনায় অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ভাষণের মান ক্রমশ নীচে নামছে। ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুরুচিকর মন্তব্য এবং হিংসার উসকানি রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও মত তাঁদের। বিশেষ করে নির্বাচনী আবহে এ ধরনের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনা সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমেও শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বহু নেটিজেন এই ধরনের মন্তব্যের নিন্দা করেছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, শাসক দলের একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি কীভাবে প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য রাখতে পারেন। বিরোধীদের দাবি, শাসকদলের একাংশের নেতাদের মধ্যে ক্রমশ অসহিষ্ণুতা বাড়ছে এবং সেই কারণেই এই ধরনের মন্তব্য সামনে আসছে। যদিও বিজেপির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি, তবে রাজনৈতিক চাপে বিষয়টি যে বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে, তা স্পষ্ট।