ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যখন উত্তেজনা চরমে, ঠিক সেই সময়েই ভোটারদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার সকালে ভোটপর্ব শুরু হওয়ার আগে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি রাজ্যের সমস্ত ভোটারকে গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে মহিলা ও যুব সমাজের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, বিপুল সংখ্যায় বুথে পৌঁছে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুন।
রাজ্যের ৭ জেলার মোট ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে এদিন সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম দফায় নজিরবিহীন ভোটদানের হার দেখা যাওয়ার পর দ্বিতীয় দফাতেও সেই প্রবণতা বজায় রাখার ওপর জোর দেয় রাজনৈতিক মহল। নির্বাচন কমিশনও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনওরকম ফাঁক না রেখে কঠোর নজরদারির মধ্যে ভোটপর্ব পরিচালনা করছে। বহু বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া প্রহরা, ওয়েবকাস্টিং, কুইক রেসপন্স টিম এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার নির্বাচনে মহিলা ভোটার এবং প্রথমবারের তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই মোদি সরাসরি এই দুই বড় ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে ভোটদানের আহ্বান জানান। বিজেপির পক্ষ থেকে এটিকে ভোটারদের উৎসাহিত করার বড় প্রচারকৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনের এই পর্যায়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, বাম-কংগ্রেস জোট—সব পক্ষই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তবে শেষ পর্যন্ত ফল নির্ভর করছে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোট শতাংশ এবং নারী-যুব ভোটারদের উপস্থিতি বহু কেন্দ্রের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
সকাল থেকেই বহু জায়গায় ভোটারদের লম্বা লাইন চোখে পড়ে। গরম উপেক্ষা করেই সাধারণ মানুষ বুথমুখী হন। গ্রামাঞ্চল থেকে শহর, সর্বত্র ভোট উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রবীণ ভোটার থেকে প্রথমবারের ভোটার—সবাই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে উৎসাহী।
এবারের নির্বাচন শুধুমাত্র সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং বাংলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিশা নির্ধারণেরও বড় পরীক্ষা। সেই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই সরাসরি বার্তা ভোটের আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নজর থাকবে শেষ পর্যন্ত কত শতাংশ ভোট পড়ে এবং এই বিপুল অংশগ্রহণ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে।