নিজস্ব প্রতিনিধি, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত কেশপুর ব্লক এর ৯ নম্বর অঞ্চলের আনন্দপুর গ্রামে গড়ে উঠছে বেআইনি টাওয়ার। এলাকাবাসীদের দাবি, পুলিশ-প্রশাসন ও কোর্টের দ্বারস্থ হয়েও কোন সুরাহা মেলেনি।আনন্দপুর গ্রামের পারিয়াল পাড়াতে একেবারে গ্রামীণ রাস্তার পাশেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে একটি টাওয়ার গড়ে তোলা নিয়েই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার তৈরি করতে গেলে যে নিয়ম থাকা প্রয়োজন, সেই নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই একেবারে গ্রামীণ রাস্তার পাশে দুটি বাড়ির মাঝে সংকীর্ণ জায়গায় গড়ে উঠছে এই টাওয়ারটি। টাওয়ার তৈরি করার জন্য গর্ত খুঁড়তে গিয়ে, জেসিবির আঘাতে পার্শ্ববর্তী মাটির বাড়িও ফেটে গেছে। সেই সঙ্গে টাওয়ারের কাছে থাকা কর্মীদের থেকে কটুক্তি ভেসে আসছে মহিলাদের উদ্দেশ্য করে। গ্রামবাসীরা বাধা দিতে গেলে, তাদের মারধরেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, যে ব্যক্তির জমিতে টাওয়ার হচ্ছে, সেই জমির মালিক শীর্ষেন্দু পরিয়াল। গ্রামবাসীদের অভিযোগ ঐ জমির মালিকের বিরুদ্ধেও। তারা জানান, পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানালেও, তারাও এসে গ্রামবাসীদেরকে সাহায্য করার পরিবর্তে উলটে শাসানি দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। কোর্ট থেকে অ্যাডভোকেট জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এবং আনন্দপুর থানার ওসিকে নোটিশও পাঠিয়েছেন বলে জানান তারা। তারপরেও কোন সুরাহা হচ্ছে না।
জমির মালিক শীর্ষেন্দু পারিয়াল জানান, আমি আমার জায়গা লিজে দিয়েছি ইন্দাস কোম্পানিকে। কোম্পানি কিভাবে টাওয়ার করবে না করবে, কোথায় কি পারমিশন নেবে, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।
পাশাপাশি আনন্দপুর ৯ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তাপসী খান বলেন, আমার পঞ্চায়েতের কাছে এসেছিল ওই কোম্পানি। আমি তাদেরকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ডকুমেন্টস জমা করতে বলি। পরে অবশ্য তারা আমার কাছে কোন যোগাযোগ করেনি। সেই সঙ্গে আমার গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকেও এখনো কোনো নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা (NOC) দেওয়া হয়নি। এর পর কিভাবে তারা এলাকায় টাওয়ার তৈরি করছে, আমি সে বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।
তবে প্রশ্ন উঠছে, পঞ্চায়েত প্রধানের অনুমতি ছাড়া কিভাবে সেই এলাকায় বেআইনিভাবে পাড়ার মধ্যে একটি কোম্পানির টাওয়ার গড়ে উঠতে পারে? বারবার গ্রামবাসীরা পুলিশ – প্রশাসনের দারস্ত হয়েও কেনো সুরাহা মিলছে না, সে বিষয়েও উড়ছে প্রশ্ন ?
