নিজস্ব সংবাদদাতা, কাঁথি: দুর্গাপুজোয় রাজ্য জুড়ে বামেদের বুকস্টল ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা চলছে। সিপিএমের অভিযোগ, বিজেপির লোকজন হামলা চালাচ্ছে। এই আবহেই পাড়ার ক্লাবে পুজো দিতে গিয়ে ফের বামেদের নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে বিঁধলেন ককরোচ’দের।
সোমবার কাঁথির নান্দনিক ক্লাবে পুজো দিতে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পুজো দিয়ে বেরিয়ে তিনি জানান, দেবী দুর্গার কাছে রাজ্যবাসীর মঙ্গল কামনা করেছেন। একই সঙ্গে চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে সকলের সহযোগিতা চান তিনি।
এরপরই বামেদের আক্রমণ করেন শুভেন্দু। কপালের টিকা ও হাতে বাঁধা ডোর দেখিয়ে তিনি বলেন, তিনি কমিউনিস্ট নন, নাস্তিক নন, তিনি হিন্দু বাড়ির ছেলে, সনাতনী। প্রতি বছর পুজো করেন, ৫৬ বছর ধরে এই পুজো হচ্ছে, তিনি ৫০ বছর ধরে করছেন। এটি সনাতন হিসেবে তাঁর কর্তব্য এবং ব্যক্তিগত আস্থার বিষয়। এর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পদের কোনও সম্পর্ক নেই।
বামেদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, “যারা লেকচার দিচ্ছে, সেই কমিউনিস্টরা পুষ্পাঞ্জলি দেয় না, চরণামৃত খায় না, হাতে ডোর বাঁধে না, কপালে টিকা দেয় না। তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।” একই সঙ্গে নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ড এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনকারী সংগঠনকেও একযোগে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এরা দেশজুড়ে বাংলাদেশের মতো অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। এদের প্রতিহত করতে হবে।”
প্রসঙ্গত, পুজোর সময় বিভিন্ন মণ্ডপের পাশে বামপন্থীরা বইয়ের স্টল দেন। পুজোর আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, পুজোর স্টল করতে হলে শারদোৎসব নয়, দুর্গোৎসব লিখতে হবে। না লিখলে স্টল করতে দেওয়া হবে না। সিপিএমের অভিযোগ, তার পর থেকেই স্টলে হামলা হচ্ছে এবং পুলিশ নিয়মের গেরো দেখিয়ে বুকস্টল বন্ধ করছে।
এদিন নান্দনিক ক্লাবের পুজোর থিম নিয়েও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার ক্লাবের ৪৭তম বর্ষে থিম করা হয়েছে ‘পুণ্যভূমি মেদিনীপুরের বীরগাথা’। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে অবিভক্ত মেদিনীপুরের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস।