অর্ণব দত্ত
অনেকেই ভয় পাচ্ছেন। নানা কারণে ভয় হচ্ছে। কেন যে ভয় ভয় লাগছে, তা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। ডাক্তারের কাছে ছুটছেন কেউ কেউ। ওঁরা বলছেন, “ডাক্তারবাবু ভয়টা কাটিয়ে দিন প্লিজ।“ এদিকে আধুনিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বহু মানুষ পাচ্ছেন কিছু হারানোর ভয়ে। অনেকেই ভয় পাচ্ছেন চাকরি খোয়ানোর। আধুনিক গবেষণা আশ্বস্ত করেছে, “ফিয়ার অব লস” কোনও রোগ নয়। বরং এটি নিতান্তই স্বাভাবিক ব্যাপার। যা আবেগজনিত। শারীরবৃত্তিয় নানা সমস্যার কারণে এই ভয় সৃষ্টি হচ্ছে। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি তথা সিবিটির মাধ্যমে মন থেকে ভয়-ভয় ভাব দূর করা পুরোপুরি সম্ভব।
ভারতে তো বটেই সারা পৃথিবীর কর্মী সম্প্রদায় যে ভয়টা বেশি পাচ্ছেন, তা হল চাকরিটা হারানোর ভয়। আন্তর্জাতিক গবেষণায় পৃথিবীর ৩৬টি দেশে সমীক্ষা চালানো হয়েছে। ৩৯ হাজার কর্মীর উপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, এঁদের মধ্যে অনেকেরই চাকরি হারানোর ভয় বুকের ভিতরটা পাথরের মতো জমাট। গত ৩ বছর ধরে বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানের হার যে ভাবে দ্রুত কমছে তাতে এই আতঙ্ক অস্বাভিক নয়।
গবেষকদের মতে, এটা ঐতিহাসিক বিপর্যয়। এডিপি নামে একটি সংস্থা প্রধান অর্থনীতিবিদ নেলা রিসার্ডসন বলেছেন, “কর্মীদের মনে ভারত-সহ বিশ্বের নানা দেশে চাকরি হারানোর ভয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের রমরমা।“ আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় এও দেখা যাচ্ছে, মোটে ১৮ শতাংশ কর্মী মনে করছেন তাঁদের চাকরিটা বজায় থাকবে। তবে তরুণ সম্প্রদায়ের কর্মীরা প্রবীণ কর্মীদের থেকে চাকরি হারানোর ভয় থেকে খানিক স্বস্তিতে। ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়স্ক কর্মীদের মধ্যে চাকরি খোয়ানোর ভয় কম। তবে বিষাদগ্রস্ত ৫৫ বছর থেকে ৬৪ বছরের বয়স্ক কর্মীরা।
সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ৪০ শতাংশ কর্মী ভয় পাচ্ছেন এআইয়ের জেরে চাকরি হারানোর। দুবছর আগে পৃথক আরেকটি সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, এই সংখ্যাটা ছিল ১২ শতাংশের কম। সারা বিশ্বের প্রতি চারজন কর্মীর মধ্যে একজন পৃথিবীর নানা দেশে মনে করছেন, তাঁদের চাকরিটা বজায় থাকবে। বাকিরা ভীতসন্ত্রস্ত। এও জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতি কবে কাটবে তা বলা মুশকিল। ভারতে ২০১৪ সালে ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকার আসার পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনারও প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তা কথার কথাই থেকে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের যুব সম্প্রদায়ের বেকারত্ব নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে ককরোচ জনতা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করেছে। কারণ তো একটাই অস্তিত্বের লড়াই।