ওঙ্কার ডেস্ক : লুথ্রাদের নাইট ক্লাবে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হল নতুন অভিযোগ। গোয়ার রোমিও লেনের লুথ্রা ভাইদের মালিকানাধীন একটি সৈকত কর্টেজে গত মাসে এক মহিলা এবং তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলার অভিযোগে ওঠে তাঁদের কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে মামলা দায়েরের পর তদন্তও শুরু হয়।
মুম্বাইয়ের বাসিন্দা বৈভব চান্দেল নামে ওই মহিলা অভিযোগ করেছেন যে ক্লাবের কর্মীরা অভদ্রভাবে কথা বলেছেন, অভদ্র আচরণ করেছেন এবং তাদের রড দিয়েও মারধোর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। চান্দেল ওই বিতর্কিত ক্লাবটিকে “শ্বাসরোধকারী” বলেও বর্ণনা করেছেন। জানিয়েছেন ওই নাইট ক্লাবে প্রবেশ এবং প্রস্থানের একটি মাত্র পথ ছিল।
চান্দেল বলেছেন, “আমি ১ নভেম্বর আমার কাজিনদের সঙ্গে ভ্যাগেটরের রোমিও লেনে গিয়েছিলাম। আমরা মোট ১৩ জন ছিলাম। ক্লাবটি এমনভাবে তৈরি যে ভিতরে ঢুকলে মনে হয় ধম বন্ধ করা পরিবেশ। এর প্রবেশপথ এবং বেরোবার মাত্র একটি পথ এবং তাও উচ্চতায় খুবই খাটো। তাই সেই ক্লাবে প্রবেশ এবং বের হওয়া কঠিন। কর্মীরা আমাদের সঙ্গে অভদ্রভাবে কথা বলেছিল এবং তাদের আচরণেও শালীনতা ছিল না। আমরা যখন ভোর ৩টের দিকে ক্লাব থেকে বের হচ্ছিলাম, তখন বেরোবার পথে একটি ভারী চেয়ার রাখা ছিল। আমার কাজিন তার পা দিয়ে চেয়ারটি সরিয়ে দেয়।” এই ঘটনায় খেপে ওঠে ক্লাবের কর্মীরা। সেই ঘটনা স্মরণ করতে গিয়ে চান্দেল বলেন যে ক্লাবের ম্যানেজার তাদের বলেছিলেন, আমরা নাকি আসবাবপত্র নষ্ট করেছি। তিনি বলেন, “আমাদের আগেই তোমাদের বের করে দেওয়া উচিত ছিল। এখানে থাকার মতো মর্যাদা তোমাদের নেই’। এরপর তিনি তার কাজিনের কলার ধরেন হেনস্থা করন।
চান্দেল আরও বলেন, “আমরা যখন ক্ষমা চেয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলাম, তখন তিনি সমস্ত নিরাপত্তা কর্মী, বাউন্সারদের ডাকলেন। তারা আমাদের ধাওয়া করতে শুরু করল এবং আমাদের দিকে হাত তুলল। যেহেতু সেই ক্লাব থেকে বের হওয়া কঠিন ছিল, তাই তারা ধাওয়া করে আমাদের লোকদের মারধর করেছিল। তারা আমার বোনের বুকে আঘাত করে, তাকে এত জোরে ধাক্কা দেয় যে সে সিঁড়ি দিয়ে পড়ে যায়। এমন কি তারা প্রবেশপথে ব্যারিকেড তৈরি করে রাখে যাতে আমরা বের হতে না পারি। আমার ভাই যখন গেটটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তখন একজন বাউন্সার এসে তাকে রড দিয়ে প্রচণ্ড মারতে শুরু করে।”
এ ব্যাপারে চেন্দেলরা স্থানীয় থানায় গিয়ে এফআইআর করে। তাতে এও বলা আছে, “যখন চান্দেল তার ভাইকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন তখন কর্মীরা তাঁকে থাপ্পড় মারে এবং তাঁর পরনের টি-শার্ট টেনে ছেঁড়ার চেষ্টা করে। চান্দেল বলেন, কর্মীরা তাদের প্রতি অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করতে থাকে।” তিনি বলেন, “যেহেতু সবাই গুরুতর আহত হয়েছিল তাই আমরা সেই মুহূর্তে থানায় না গিয়ে সকালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমি পুলিশকে জানিয়েছিলাম সেই কথা। থানা থেকে বলা হয় পরের দিন অঞ্জুনা থানায় আসতে। কোনওভাবে, অনেক চেষ্টার পর এফআইআর দায়ের করেছিলাম আমরা।” ক্লাবের ম্যানেজার অজয় কবিটকর, আরেক কর্মী জুনায়েদ আলী এবং নিরাপত্তা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
চান্দেলের অভিযোগ, এম আই আর-এ গৌরব লুথরা এবং সৌরভ লুথরার নামও রাখা হয়েছিল কিন্তু পুলিশ অভিযোগটি সরিয়ে দিয়ে বলে যে তাদের কোনও দোষ নেই কারণ তারা ঘটনার সময় শারীরিকভাবে উপস্থিত ছিলেন না। এই অভিজ্ঞতা থেকে চান্দেল আরও বলেন, “যদি আপনি মহিলা এবং পর্যটকদের সুরক্ষা মাথায় না রাখেন তাহলে গোয়ায় এই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকবে।”
লুথরা ভাইদের মালিকানাধীন আরেকটি নাইটক্লাব ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জন নিহত হওয়ার কয়েকদিন পর মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তের নির্দেশে ‘রোমিও লেন’ সমুদ্র সৈকতের খুপরিটি ভেঙে ফেলা হয়। রেস্তোরাঁটি সরকারের মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল তা নজরে আসে অগ্নিকাণ্ডের পর।
