ওঙ্কার ডেস্ক: নিউইয়র্ক শহরের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিকে কেন্দ্র করে আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ তৈরি হয়েছে। বিতর্কিত মন্তব্য, আদর্শগত সংঘাত এবং দীর্ঘদিনের বাকযুদ্ধের পর অবশেষে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে সাক্ষাতের পথ খুলে গেছে। ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, মেয়র-ইলেক্ট মামদানি হোয়াইট হাউসে দেখা করার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং শুক্রবার সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ফলে দুই বিপরীতমুখী রাজনৈতিক চরিত্রের মুখোমুখি হওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
গত কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প বারবার মামদানিকে ‘কমিউনিস্ট’ বলে কটাক্ষ করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি দাবি করেছিলেন, মামদানি জিতলে নিউইয়র্ক শহর অনিশ্চয়তা ও বিপদের মুখে পড়বে। অপরদিকে, মামদানি জবাবে জানিয়েছিলেন, তাঁর লক্ষ্য শহরবাসীর জীবনযাত্রা সুরক্ষিত করা, রাজনৈতিক কটাক্ষ নয়। নির্বাচনের পরে দুই পক্ষের শীতল সম্পর্ক আরও দৃশ্যমান হয়েছিল, কিন্তু এবার বাস্তব পরিস্থিতি বদলেছে। শহরের প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় অপরিহার্য এই কারণেই মামদানি আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন।
বৈঠকে কী হতে পারে তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। নিউইয়র্কের আবাসন সংকট, বাড়তি ব্যয়ভার, জননিরাপত্তা, অভিবাসন নীতি ও সরকারি অর্থবরাদ্দ এই সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প ও মামদানি দু’জনেই আদর্শগতভাবে সম্পূর্ণ বিপরীত শিবিরের হলেও প্রশাসনিক স্বার্থে আলোচনা বাধ্যতামূলক। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই মন্তব্য করেছেন যে, নিউইয়র্কের সফলতা তিনি দেখতে চান এবং মামদানি যদি সেই পথেই এগোতে চান তবে সহযোগিতা অস্বীকার করা হবে না।
তবে পুরো পরিস্থিতির রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও গভীর। নির্বাচনের আগে যে দু’জন মুখোমুখি কঠোর সমালোচনার বৃষ্টি ঝরিয়েছিলেন, তারা এখন আলোচনার টেবিলে বসছেন। এতে একদিকে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার বার্তা মিলছে, অপরদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যে মামদানির প্রতি বিদ্রূপ এখনও স্পষ্ট তিনি বলেছেন, নিজের সঙ্গে তুলনা করলে তিনি মামদানির চেয়ে ‘অনেক বেশি সুন্দর’। এই ধরনের ব্যঙ্গ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে দুই নেতার সম্পর্কের সূক্ষ্ম উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়।
মামদানি অবশ্য পরিষ্কার জানিয়েছেন, শহরের মানুষের স্বার্থে প্রয়োজন হলে তিনি যেকোনও পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার খরচ কমানো এবং দৈনন্দিন সমস্যা দূর করাই তাঁর প্রথম কাজ। ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করাও সেই প্রয়াসেরই অংশ। হোয়াইট হাউসে এই সাক্ষাৎ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক নীতির একটি বড় দিশা স্থির করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
