ওঙ্কার ডেস্ক : অর্থ পাচার সংক্রান্ত তদন্তে নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা এবং তাঁর স্ত্রী, প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধে কাঠমান্ডু জেলা আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে জানা গেছে। ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’ জানিয়েছে, অর্থ পাচার তদন্ত বিভাগের অনুরোধের ভিত্তিতে বিচারপতি মহেন্দ্র খাড়কার বেঞ্চের অনুমোদনে মঙ্গলবার এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেউবা ও তাঁর স্ত্রীর পাশাপাশি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি এবং পুষ্পা কমল দাহালের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত করছে ওই সংস্থা।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ‘জেন-জি’ আন্দোলনের সময় দেউবা, প্রচণ্ডর কন্যা এবং প্রাক্তন জ্বালানি মন্ত্রী দীপক খাড়কার বাসভবন থেকে পোড়ানো নগদ টাকার ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে খাড়কা তদন্তের জন্য পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা তাঁদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ফরেনসিক পরীক্ষায় টাকার নোটের টুকরোগুলো আসল বলে নিশ্চিত হওয়ার পর, ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে এমন সন্দেহের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়।
তবে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেউবা ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। নেপালে সংসদীয় নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে, চিকিৎসার জন্য গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এই দম্পতি সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এরপর থেকে তাঁরা দেশে ফেরেননি এবং বলা হচ্ছে যে তাঁরা হংকংয়ে রয়েছেন।
সূত্র ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’কে জানিয়েছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারির প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেউবা দম্পতির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর ফলে কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিদেশে আটক করতে এবং নেপালে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে পারবে।
পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী দেউবা ১৯৯১ সাল থেকে নেপালের রাজনীতিতে এক কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে রয়েছেন এবং তাঁর নিজ জেলা দাদেলধুরা থেকে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তবে, জানুয়ারিতে একটি বিশেষ সাধারণ সম্মেলনের মাধ্যমে নেপালি কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর, তিনি গত ৫ মার্চ দেশের সর্বশেষ প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।
৫ মার্চের নির্বাচনের পর, অপেক্ষাকৃত নতুন রাজনৈতিক শক্তি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে বৃহত্তম দল হিসেবে ঊথে আসে। এরপর নতুন সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে এই বিশেষ তদন্ত শুরু করায় দেউবা দম্পতির দেশে ফেরার পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হয়ে ওঠে।