ওঙ্কার ডেস্ক: ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ে সৌদি আরবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই আবহে সে দেশে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসলামাবাদ। সূত্রের খবর, মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে ২৫ হাজার পর্যন্ত সেনা মোতায়েন করার বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করছে পাকিস্তান। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা চুক্তি’-র আওতায় প্রস্তাবিত এই সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। ওই চুক্তি প্রতিরক্ষা সহযোগিতারই অংশ; কারণ রিয়াধ বর্তমানে হুথিদের হুমকির মুখে রয়েছে।
রিপোর্ট অনুসারে, বর্তমানে সৌদি আরবে ১৫ হাজারেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসলামাবাদ। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার ফলে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সৌদি আরবে ২৫ হাজার পর্যন্ত সেনা মোতায়েন করতে পারে। এই সামরিক সহায়তা কেবল সেনা মোতায়েনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আশা করা হচ্ছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রকেট এবং ড্রোন সরবরাহের মাধ্যমেও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে জোরদার করছে পাকিস্তান। হুথিদের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে ইসলামাবাদের এই প্রস্তুতির বিষয়টি সামনে এল। রিয়াধের অভিযোগ, এই গোষ্ঠীটি পবিত্র শহর মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। যা সে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মক্কা চুক্তিটি এখনও পুরোপুরি কার্যকর না হলেও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক ৭ আগস্ট এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, এই তিন দেশের মধ্যে কোনও সদস্য দেশের উপর হামলা হলে সেটি সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। পরবর্তীতে ২৫ সেপ্টেম্বর রিয়াধে তিন দেশের সামরিক প্রধানরা বৈঠক করে হুথি হামলার নিন্দা জানান।