বাঙালি নৌসেনা কর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায়কে পাকিস্তানে তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেফতারির পর এবার দেশজুড়ে বড় অভিযানে নামল কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স। প্রকাশ্যে এলো আরও বড় চক্র। গোয়েন্দাদের সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন আরও ১৮ জন, যার মধ্যে ১৩ জনই নৌবাহিনীর কর্মী।
দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপন তথ্য কীভাবে পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হাতে যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ অভিযান। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল ২০২৬’। সূত্রের খবর, ১২টি বিশেষ দলে ভাগ হয়ে ১০টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল। বিশাখাপত্তনমে নৌসেনা কর্মী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তল্লাশির গতি আরও বাড়ানো হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ ছাড়াও কেরল, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, গোয়া, দিল্লি, গুজরাত, তামিলনাড়ু, বিহার এবং ছত্তীসগঢ়ে চলছে তল্লাশি। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।
এখনও পর্যন্ত এই চক্রে জড়িত দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বত্তূর থেকে গ্রেফতার হন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা নৌসেনা কর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। আদালত তাঁকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। দ্বিতীয়জন হলেন নৌসেনা আধিকারিকদের গাড়ির চালক আন্নাম সাই ভারা প্রসাদ। অভিযোগ, মোটা টাকার বিনিময়ে বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটি সহ দেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপন তথ্য পাকিস্তানে পাচার করছিলেন তাঁরা।
নৌসেনা, সন্ত্রাসদমন শাখা এবং স্থানীয় পুলিশের সাহায্যে ১৮ জন সন্দেহভাজনের বাড়ি ও ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রচুর নথি, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বাকি ১৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত জারি রেখেছে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল।