টালমাটাল জ্ঞানেশ
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। মঙ্গলবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দিল্লি। এই কর্মসূচি তাঁদের পূর্ব ঘোষিত ছিল। সেই মতো তাঁরা দিল্লির পথে নেমেছিলেন। কিন্তু তাঁদের এই উত্তাপকে এদিন কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য। যা হল- ‘নতুন ভোটারদের জন্য ফর্ম-৬ বদলে অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট’! অথচ গত ২৬ সেপ্টেম্বর জ্ঞানেশ কুমার বড়াই করে বলেছিলেন, ফর্ম ৬ আবেদনের সঙ্গে ভোটারদের যে ঘোষণাপত্র দিতে হয়েছে, তা বহাল রেখেছিল সুপ্রিম কোর্ট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দাবি দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এভাবে নস্যাৎ করে দেবন এটা বিরোধীদের জানা ছিল না। ফলে আগুনে ঘি পড়ার মতো জ্বলে উঠল দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়াধীশে এই দাবি। দু দিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের আরেক কর্মরত বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া মুখ খুলেছিলেন SIR নিয়ে। তিনি বলেছিলেন, ভোটার তালিকা থেকে যদি প্রকৃত প্রস্তাবেই গণহারে নাম বাদ পড়ে থাকে, তবে তা হবে ‘সংবিধানের হৃদয়ে আঘাত’। তাঁর ওই বক্তব্যের সারাংশতে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি উঠে আসে তা এরকম- “কোনও কর্তৃপক্ষই এই কাজ করতে পারে না, কোনও আদালতই এমন কাজকে প্রশ্রয় দিতে পারে না।……ভারতীয় সংবিধানে নাগরিকদের দুটি শ্রেণির, যথাক্রমে ভোটাধিকার-সহ নাগরিক এবং ভোটাধিকার বিহীন নাগরিক, এমন বিধান দেয়নি।……সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ, যা সমতার অধিকার নিশ্চিত করে এবং ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ, যা সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের বিধান দেয়, এর সরাসরি লঙ্ঘন।” বিচারপতি আরও বলেন, “একজন ভারতীয় নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। এটি শরীর থেকে আত্মাকে উপড়ে ফেলার মতো কাজ।” এমন অবস্থায় নিজেকে বহাল রাখার জেদ ও শক্তি আর কতদিন বজায় রাখতে পারবেন জ্ঞানেশ কুমার এটি বড় প্রশ্ন।