ওঙ্কার ডেস্ক: ১৯৯১ সালের ‘প্লেসেস অব ওয়ারশিপ (স্পেশাল প্রভিশনস) অ্যাক্ট’ জনস্বার্থে কোনও ধর্মীয় উপাসনাস্থল অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা নয় বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই আইন ধর্মীয় উপাসনাস্থলের ধর্মীয় চরিত্র সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রণীত হলেও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে সরকার আইন অনুযায়ী কোনও উপাসনাস্থলের জমি বা সম্পত্তি অধিগ্রহণ করতে পারে। এই ধরনের অধিগ্রহণকে ১৯৯১ সালের আইনের পরিপন্থী বলা যাবে না।
সম্প্রতি বারাণসীর দালমণ্ডি এলাকায় কাশী বিশ্বনাথ ধাম করিডর সম্প্রসারণ প্রকল্পকে ঘিরে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ করে আদালত। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, করিডর সম্প্রসারণের জন্য একাধিক ধর্মীয় স্থাপনা, যার মধ্যে কয়েকটি মসজিদও রয়েছে, অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত ১৯৯১ সালের আইনের বিরোধী। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, ওই আইন কার্যকর হওয়ার পর কোনও ধর্মীয় উপাসনাস্থল অধিগ্রহণ করা যায় না এবং সরকারের এই পদক্ষেপ বেআইনি। তবে ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনকারীদের সেই যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, ১৯৯১ সালের আইনের মূল উদ্দেশ্য হল কোনও ধর্মীয় উপাসনাস্থলের ধর্মীয় পরিচয় বা চরিত্র পরিবর্তন রোধ করা। অর্থাৎ একটি উপাসনাস্থলকে অন্য ধর্মের উপাসনাস্থলে রূপান্তর করা বা তার ধর্মীয় মর্যাদা বদলে দেওয়া যাতে না হয়, সেই বিষয়টিই এই আইনের মূল লক্ষ্য। কিন্তু জনস্বার্থে রাস্তা সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন বা অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের জন্য আইন মেনে জমি অধিগ্রহণের উপর এই আইনে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে, রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অন্যতম অংশ হল জনস্বার্থে সম্পত্তি অধিগ্রহণের অধিকার। সেই ক্ষমতা আইন দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হলে তা স্পষ্টভাবে আইনে উল্লেখ থাকতে হয়। ১৯৯১ সালের আইনে এমন কোনও বিধান নেই, যা সরকারের এই অধিকার কেড়ে নেয়। ফলে কোনও ধর্মীয় স্থাপনা জনস্বার্থে অধিগ্রহণ করা হলে, শুধুমাত্র সেই কারণেই তা আইনবিরোধী হয়ে যায় না। বিচারপতিরা আরও বলেন, অধিগ্রহণের ফলে সংশ্লিষ্ট উপাসনাস্থলের ধর্মীয় চরিত্র পরিবর্তন করা যাবে না। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াই আইনসম্মত ও নির্ধারিত বিধি অনুসারে সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ অধিগ্রহণের উদ্দেশ্য যদি জনকল্যাণমূলক হয় এবং আইন মেনে তা করা হয়, তাহলে ১৯৯১ সালের আইনের লঙ্ঘনের প্রশ্ন ওঠে না।