ওঙ্কার ডেস্ক: ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একদিনে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। তাঁদের মস্কো-সহ রাশিয়ার বিভিন্ন শহরের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। হতাহতরা কাজের জন্য দালালচক্রের মাধ্যমে রাশিয়া গিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, সেখানে তাঁদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ানের দাবি, রুশ সেনাবাহিনী ওই ৩০ জন বাংলাদেশি যুবককে কার্যত ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল। ইউক্রেনীয় সেনার অবস্থান শনাক্ত করতে তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় বাংলাদেশে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণ শ্রমিকের কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই যুবকদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা করে আদায় করে দালালচক্র। পরে মস্কো হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছলে তাঁদের পাসপোর্ট-সহ প্রয়োজনীয় নথি কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের রুশ সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আহত এক যুবক। সম্প্রতি তিনি ঢাকায় ফিরেছেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ড্রোনের আঘাতে কোমর ভেঙে যায়। শরীরের নিচের অংশও অবশ হয়ে পড়ে। সেই অবস্থায় বুকের উপর ভর দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তিনি রুশ সেনার শিবিরে পৌঁছন।
ওই যুবকের দাবি, ইউক্রেনীয় সেনার অবস্থান জানার জন্য বাংলাদেশি তরুণদের খোলা মাঠে পাঠানো হয়েছিল। কিছুক্ষণ পরেই সেখানে ড্রোন হামলা চালানো হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই ১৮ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে মারা যান আরও দু’জন। বাকি ১০ জনের মধ্যে কয়েক জন আহত হয়েছেন। অন্যরা এখনও যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন।