দেশের প্রথম নির্বাচনে বাদ পড়েছিল ২৮ লক্ষ মহিলা ভোটার
স্বাধীন ভারতের প্রথম নির্বাচন। ১৯৫১ সাল। তখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেন। ভারতীয় সমাজে, বিশেষ করে উত্তর ভারতে সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে ওই ভোটকেই হাতিয়ার করেছিলেন তিনি। অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত। তিনি জানিয়েছিলেন, স্বাধীন দেশে প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব পরিচয় আছে। স্বামী, বাবা বা ছেলের পরিচয়ে ভোটার তালিকায় নাম রাখা যাবে না। তৎকালীন সমাজে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতায় এভাবেই কুড়ুল বসাতে চেয়েছিলেন সুকুমার সেন। ফলে তাঁর সেই ২৮ লক্ষ মহিলা ভোটার বাদ দেওয়ার পিছনে কাজ করেছিল সমাজ সংস্কারের মূল্যবোধ।
মহিলা ভোটারদের জাগরিত করতে সেবার কম তৎপরতা ছিল না। মহিলাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে ঢোল পিটিয়ে প্রচারে নেমেছিল কমিশন। অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল, এমনকি ভোটার তালিকা প্রস্তুতের জন্য বিশেষ মহিলা কর্মীদের বাড়ি বাড়ি পাঠানো হয়েছিল। তবুও আশাপ্রদ সাফল্য মেলেনি। বিশেষ করে, তৎকালীন বিহার, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান ও মধ্যভারতে মহিলা ভোটারদের মধ্যে ছিল প্রবল অনীহা। কারণ চিরাচরিত সংস্কার। অন্য পুরুষের কাছে নিজের নাম প্রকাশে প্রবল আপত্তি ছিল তাদের। যার ফলে বাদ পড়ে প্রায় ২৮ লক্ষ মহিলা।
তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, মহিলা সমিতিগুলো বিরোধীতায় সোচ্চার হয়, চলতি সমাজ ব্যবস্থাকে মেনে নেওয়ার পক্ষে আওয়াজ ওঠে। তবু টলানো যায়নি তৎকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেনকে। তিনি বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, এর সুফল মিলবে অচিরেই। তাঁর বিশ্বাস বিফলে যায়নি। পরের নির্বাচনে ১৯৫৭য়, বাদ পড়া মহিলাদের ৮৫ শতাংশই স্বতপঃপ্রণোদিত ভাবে নিজেদের নাম তুলেছিলেন। এর ৭৫ বছর পর, আধুনিক ভারতে ভোটার তালিকায় বাদ পড়া নিয়ে যে তুলকালাম পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে তখন সুকুমার সেনের সেই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে অনুসরণযোগ্য ও ঐতিহাসিক।