ওঙ্কার ডেস্ক : আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যাকে ঘিরে সারা বিশ্বে এখন ব্যাপক কৌতুহল। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একজন আফ্রিকান রাজা, শরীরের উপরের দিক নিরাবরণ, নিম্নাঙ্গে ঐতিহ্যবাহী পোশাক, একটি ব্যক্তিগত জেট থেকে নামার সময় তাকে অভিবাদন জানানো হচ্ছে এবং প্রণাম করা হচ্ছে, তার চারপাশে মহিলা এবং শিশুদের একটি আকর্ষণীয় দল রয়েছে। যেন আস্ত একটা গ্রাম নিয়ে নামলেন বিমানবন্দরে।

যাঁকে নিয়ে সারা বিশ্বের এত কৌতুহল, তিনি হলেন আফ্রিকার ইসোয়াতিনির রাজা মসোয়াতি তৃতীয়। দেশটি স্বাধীনতার ৫০ বছরে অবশ্য নাম বদলেছে। আগে নাম ছিল সোয়াজিল্যান্ড। সুইজারল্যান্ডের মতো শোনায় বলে বিভ্রান্তি কাটাতে দেশটির নাম বদলে রাখা হয় ইসোয়াতিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার একটি স্থলবেষ্টিত দেশ।

এই দেশের রাজা, বলা ভালো এই রাজ্যের রাজা ১৯৮৬ সাল থেকে রাজত্ব করে আসছেন মসোয়াতি তৃতীয়। গত ১০ জুলাই ব্যক্তিগত কাজে আসেন আরব আমিরাতে। আবুধাবিতে তাঁর জাঁকজমকপূর্ণ আগমন বিশ্বজুড়ে তাক লাগিয়ে দেয়। রাজার সঙ্গে তখন তাঁর ১৫ জন স্ত্রী, ৩০ জন সন্তান এবং সেই দলে ১০০ জনের বেশি সহকারী ও পরিচারক। এই রাজকীয় সফরসঙ্গী নিয়ে তিনিও বিমান থেকে নামেন সে দেশের ঐতিহ্যবাহী চিতাবাঘের মতো পোশাক পরে। রাজাকে তার সফরসঙ্গীদের সামনে গর্বের সঙ্গে হাঁটতে দেখা যায়। তাঁর স্ত্রীরা কিন্তু ছিলেন অধুনা পোশাকে। জানা গেছে, এই দলের বিশাল জনসমাগমে ভেঙে পড়ে বিমানবন্দরে স্বাভাবিক কাজকর্ম। নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে তিনটি টার্মিনাল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল। এমন কি লকডাউন ঘোষণা করতে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দৃশ্য আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

রাজার এই সফরের লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা। তবে, তার ব্যয়বহুল জীবনধারা এবং নাটকীয় আগমনই ছিল কৌতুহলের মূল কেন্দ্র।

রাজা তৃতীয় মসোয়াতি ১৯৮৬ সাল থেকে ইসোয়াতিনি শাসন করে আসছেন। তিনি কেবল তাঁর ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতির জন্যই নয়, তাঁর বিশাল ব্যক্তিগত সম্পদের জন্যও পরিচিত। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা তাকে আফ্রিকার অন্যতম ধনী রাজা করে তুলেছে। তাঁর পূর্ববর্তী রাজা তৃতীয় মসোয়াতির বাবার ছিলেন ৭০ জনেরও বেশি স্ত্রী, শত শত সন্তান। বর্তমান মসোয়াতি অবশ্য এখনও তাঁর বাবার গৌরবকে ছুঁতে পারেননি। এখনও পর্যন্ত তাঁর স্ত্রীর সংখ্যা ৩০। ৩৫ জনেরও বেশি সন্তান। যাঁদের মধ্যে ১৫ জন স্ত্রী তাঁর সফরসঙ্গী।

এখনও পর্যন্ত ৩০ জন স্ত্রী এ কারণেই বলা হল যেহেতু প্রতি বছর তিনি ‘রিড ড্যান্স’ অনুষ্ঠান থেকে একজন নতুন স্ত্রী নির্বাচন করেন। প্রতি বছর ঘরে আসেন নতুন রানি, উপহার দেন রোলস রয়েস। রাজবংশের এই ট্র্যাডিশান এখনও ধুমধাম করে চলছে। এই অনুষ্ঠানে অসংখ্য সুন্দরী তরুণী যোগ দেন। তাদের মধ্য থেকে একজনকে স্ত্রী হিসেবে নির্বাচন করেন রাজা মসোয়াতি।

ইসোয়াতিনির প্রায় ৬০ শতাংশ জনসংখ্যা দারিদ্র্যসীমার নিচে। আফ্রিকা মহাদেশের খুবই ছোট্ট এই দেশ। আয়তনে খুব ছোট্টো হলে কী হবে, রাজা তো রাজাই। দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা জরাজীর্ণ হলেও রাজার বিলাসবহুল জীবন কিন্তু অতুলনীয়। বিদেশ গেলে তিনি ব্যবহার করেন ব্যক্তিগত বিমান। কয়েকশ কোটি টাকা দিয়ে স্ত্রীদের রোলস রয়েস কিনে দেন রাজা। দেশের বিভিন্ন সেক্টরের অধিকাংশ শেয়ার তাঁর। রাজার সম্পত্তি ফুলেফেঁপে উঠলেও দেশের মানুষের অবস্থা শোচনীয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষার বেহাল দশা। এই দেশের রাজাদের ‘দ্য লায়ন’ নামে ডাকা হয়। এটাই দেশের ঐতিহ্যবাহী রীতি। ইসোয়াতিনি এইসময়ে এক জীবন্ত ইতিহাস। একসময় রাজতন্ত্র কেমন ছিল তা ২১ শতকে দাঁড়িয়ে বিশ্ববাসী উপলব্ধি করতে পারেন।
