ওঙ্কার ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার রামনগরে গিয়ে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিবরণ শোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাশে থাকার আশ্বাসও দেন। এদিন শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের একজন যোগ্য সদস্যকে চাকরির ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রেও সবরকম সহযোগিতা করা হবে।
আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, যাঁরা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। এছাড়াও যাঁদের বাড়িঘর বা সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে, তাঁদেরও সাহায্য করার আশ্বাস দেন তিনি। এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁরা যেন নিজেদের একা না ভাবেন। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, ভবিষ্যতেও প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এদিন তাঁর সঙ্গে বিজেপির একাধিক নেতা-কর্মীও উপস্থিত ছিলেন।
সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন শঙ্করপুরের ৯ মৎস্যজীবী। রবিবার তাদের পরিবারের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য তুলে দিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে পরিবারের একজনকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। সেই মতো রবিবার জেলার রামনগর -১ ব্লক অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পদক্ষেপ করা হয়। গত ২ রা জুলাই শংকরপুর থেকে ১৫ জন মৎস্যজীবী একটি ট্রলারে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলেও ট্রলারটি নিখোঁজ হয়। পরে বকখালি সংলগ্ন বাঘেরচরের কাছে গভীর সমুদ্রে ট্রলারটিকে উল্টানো অবস্থায় পাওয়া যায়। ট্রলার থেকে ওই নয় জন মৎস্যজীবীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।দুর্ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়াও হাওড়া ও নদিয়ার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া উড়িষ্যার তিন জন মৃত মৎস্যজীবীর পরিবারকেও রাজ্য সচিবালয়ের মাধ্যমে সমপরিমাণ অর্থ সাহায্য দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। অর্থ দিয়ে স্বজন হারানোর ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয় স্বীকার করে মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘মিশন বাৎসল্য’ প্রকল্পের আওতায় অনাথ শিশুদের ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত পড়াশোনার জন্য মাসে ৪,০০০ টাকা করে বৃত্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যোগ্য ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ এবং বিধবা ও বার্ধক্য ভাতার আওতায় আনা হবে। তাছাড়া গৃহহীন পরিবারগুলিকে ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’য় নতুন ঘর বরাদ্দ নিশ্চিত করতে রামনগর-১ ব্লকের বিডিও-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।