ওঙ্কার ডেস্ক: পাঞ্জাবে সম্ভাব্য বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক ভেস্তে দেওয়ার দাবি করেছে রাজ্য পুলিশ। পুলিশের দাবি, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর মদতপুষ্ট এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল (বিকেআই)-এর একটি সক্রিয় জঙ্গি মডিউল সফলভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে একাধিক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম, আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের দাবি, সময়মতো এই অভিযান না হলে রাজ্যে বড় ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটতে পারত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে ওই জঙ্গি চক্রের গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছিল। এরপর একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া আইইডি এবং বিস্ফোরক সামগ্রী দেখে তদন্তকারীদের ধারণা, অভিযুক্তরা বড় ধরনের বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করছিল। পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং যোগাযোগে ব্যবহৃত একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইসও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃতরা বিদেশে বসে থাকা বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনালের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিল। অভিযোগ, পাকিস্তানের আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ মদতে তারা পাঞ্জাবে অশান্তি সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা করছিল। তদন্তকারীদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নির্দেশ ও অর্থের লেনদেন চলত। বিদেশ থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহের চেষ্টাও চলছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আইইডিটি কার্যকর অবস্থায় ছিল কি না, তা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিস্ফোরক সামগ্রীর উৎস, অর্থের জোগান, অস্ত্র পাচারের রুট এবং এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অন্য সদস্যদের খোঁজে তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলেও মনে করছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার তদন্তে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গেও সমন্বয় রেখে কাজ করছে পাঞ্জাব পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইন, বিস্ফোরক আইন এবং অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।