ওঙ্কার ডেস্ক: মাদারিহাট এলাকায় ফের বুনো হাতির হামলায় মৃত্যু হল এক মহিলার। সোমবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, মহিলাটি বাজার থেকে ফেরার পথে আচমকাই জঙ্গলের দিক থেকে বেরিয়ে আসে একটি দাঁতাল হাতি। গ্রামসংলগ্ন কাঁচা রাস্তা ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে এসে হাতিটি প্রথমে মহিলাকে ধাক্কা মারে, পরে শুঁড় দিয়ে তুলে মাটিতে আছড়ে ফেলে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা চিৎকার করে অন্যদের খবর দিলেও, কেউই ততক্ষণে হাতিটির কাছে যেতে সাহস পাননি।
খবর পেয়ে জলদাপাড়া বনবিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বনকর্মীদের মতে, হামলাকারী হাতিটি সম্ভবত গত কয়েক দিন ধরে গ্রাম লাগোয়া এলাকাতেই ঘোরাফেরা করছিল। রাতে খাবারের সন্ধানে কলা-বাগান ও ধানখেতের দিকেও নেমে আসছিল বলে সন্দেহ। এর আগে একই এলাকায় কয়েকটি বাড়ির চাল ভেঙে ফেলার অভিযোগও উঠেছিল। বনকর্মীরা পায়ের দাগ দেখে হাতিটিকে শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সকাল থেকেই গ্রামের রাস্তা ফাঁকা হয়ে যায়। বাজারও আগেভাগে বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বনদপ্তরকে বহুবার হাঁটাহাঁটি করা হাতির খবর দেওয়া হলেও, রাতে টহলদারি বাড়ানো হয়নি। ফলে গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বনকর্মীরা অবশ্য জানিয়েছেন, এলাকার চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত টহল, নজরদারি ও হুল্লোড় দল মোতায়েন করা হচ্ছে।
মৃত মহিলার পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, আগেও একাধিকবার হাতি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হয়নি। গত অক্টোবর মাসে হাতির দাপটে ঐ এলাকার ছার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এলাকার মানুষের নিরাপত্তা রক্ষার ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
অপরদিকে বনবিভাগ জানিয়েছে, হাতিটিকে জনবসতি থেকে দূরে ঠেলে দিতে চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি, গ্রামবাসীদের সতর্ক থাকতে এবং অন্ধকারের পরে বাড়ির বাইরে একা বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। জঙ্গল-পার্শ্ববর্তী এলাকায় বাস করা মানুষদের বিশেষ সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
