ওঙ্কার ডেস্ক: ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়নের এক বড় মাইলফলক তুলে ধরলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রের ‘লখপতি দিদি’ কর্মসূচি ইতিমধ্যেই ২ কোটি গ্রামীণ মহিলাকে বছরে অন্তত ১ লক্ষ টাকা আয়ের সক্ষমতা এনে দিয়েছে। এটি কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, এখন সরকারের লক্ষ্য এই সাফল্যের পরিধি আরও বাড়িয়ে ৩ কোটিতে পৌঁছানো। পাশাপাশি এদিন প্রধান মন্ত্রী ভারতের যুব সমাজের উদ্দেশ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজকার যোজনা’ –র কথা বলেন।
‘লখপতি দিদি’ কর্মসূচি দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশনের অধীনে পরিচালিত হয়। এর উদ্দেশ্য গ্রামীণ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ দেওয়া, সাশ্রয়ী হারে ঋণসুবিধা প্রদান, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং বাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা। এই কর্মসূচির ফলে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, দুগ্ধ উৎপাদন, হস্তশিল্প, সেলাই-কাটিং, এমনকি অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রেও মহিলারা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ভাষণে আরও উল্লেখ করেন ‘নমো ড্রোন দিদি’ প্রকল্পের কথা। এর মাধ্যমে গ্রামীণ মহিলাদের ড্রোন চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারকে ত্বরান্বিত করছে। সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে এই ড্রোনগুলি স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি কিনে কৃষিকাজে ব্যবহার করছে, যার ফলে চাষের খরচ কমছে, উৎপাদনশীলতা বাড়ছে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
মোদীর বক্তব্যে পরিষ্কার হয় যে, ‘লখপতি দিদি’ কর্মসূচিকে বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। দেশের ৩.৫ কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সরকারের আশা, এই ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নারীর সামাজিক মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি করবে।
সরকারি পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, কর্মসূচি চালুর পর থেকে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওডিশা, মধ্যপ্রদেশসহ একাধিক রাজ্যে হাজার হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠী তাদের ব্যবসা সফলভাবে দাঁড় করিয়েছে। অনেক গোষ্ঠী এখন স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে রাজ্য ও জাতীয় স্তরের বাজারে পণ্য সরবরাহ করছে। ফলে শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়ে উঠছে।
লাখপতি দিদির পাশাপাশি এদিন নরেন্দ্র মোদী যুব সমাজের উদ্দেশ্য ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজকার যোজনা’ ঘোষনা করেন।যেটি স্বাধীনতা দিবসের দিন থেকেই কার্যকর করার কথা বলেছেন তিনি। এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র সরকার এক লক্ষ কোটি তাকা বরাদ্দ করেছে বলে জানিয়েছেন মোদী। যার আওতায় প্রায় ৩ কোটি যুব উপকৃত হবে।
