ওঙ্কার ডেস্ক : সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় দেশজুড়ে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৩২,০০০-র বেশি হাসপাতালকে যুক্ত করা হয়েছিল আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে। আর এতেই এখন জাঁতাকলে পড়েছেন গরিব মানুষেরা। চিকিৎসা খাতে তৈরি এই বিমা প্রকল্প এখন নিজেই কোমায়।
সাত বছর যেতে না যেতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাধের আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প এখন টাকার অভাবে ধুঁকছে। এই প্রকল্পের অধীন প্রতিটি পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা বিমা পেতে পারেন। কিন্তু, এই প্রকল্প চালু করার পর থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালগুলির কাছে প্রায় ১.২১ লক্ষ কোটি টাকা পরিশোধ দেয়নি কেন্দ্র। ফলে, আয়ুষ্মান প্রকল্পের কার্ড দেখলেই হাসপাতালগুলি পরিষেবা দিতে অস্বীকার করছে।
ফলে অসহায় অবস্থায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে রোগীদের। দেশের সর্বত্রই একই হাল। হাসপাতালগুলির বক্তব্য, শুরু থেকে এ পর্যন্ত বকেয়া মেটায়নি সরকার। এই সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে হরিয়ানায়, যেখানে আয়ুষ্মান ভারতের পাশাপাশি রাজ্যের প্রকল্প রয়েছে চিরায়ু যোজনা। এর ফলে গত ৭ অগস্ট থেকে রাজ্যের তালিকাভুক্ত ৬০০-র বেশি বেসরকারি হাসপাতাল আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রের কাছে পাওনা রয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এই নিয়ে পানিপথে ২৪ অগস্ট ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তরফে প্রতিবাদ দেখানো হয়।
দেশে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ১২ কোটি পরিবার রয়েছে। যার মধ্যে ১,৩৬৪ কোটি উপভোক্তাই হরিয়ানার। ফলে এই রাজ্যে সমস্যাটা জটিল আকার নিয়েছে। সরকারি কর্তারা বেসরকারি হাসপাতালের বিল নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। অথচ খরচা কমাতে নারাজ এখানকার বেসরকারি হাসপাতালগুলি। এই পরিস্থিতিতে জাঁতাকলে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। অথচ, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতেই লোকসভায় আয়ুষ্মান ভারতের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন, দেশের লোক এই প্রকল্পে ১.২০ লক্ষ কোটি টাকা বাঁচাতে পেরেছেন।
শুধু হরিয়ানা নয়, একই অবস্থা মণিপুর, রাজস্থান ও জম্মু-কাশ্মীরেরও। এ মাসের গোড়ার দিকে মণিপুরের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি সংগঠন চিঠি লিখে কেন্দ্রকে জানিয়েছিল, ১৬ অগস্ট থেকে এই প্রকল্পে পরিষেবা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে। উত্তর-পূর্বের ছোট্ট পাহাড়ি এই রাজ্যে ৪৩টি হাসপাতাল তালিকাভুক্ত আছে। যাদের বকেয়ার পরিমাণ গত ৬ মাসে ৮০ কোটি টাকা। আয়ুষ্মান প্রকল্পে যুক্ত দিল্লির হাসপাতালগুলিও এই একই ফাঁপরে পড়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের বেসরকারি হাসপাতালগুলিও গতবছর অগস্টেই এই পরিষেবা বন্ধের হুমকি দিয়েছিল। তাদের পাওনা তখনই ছিল প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। রাজস্থানেও একই অবস্থা। তাদের পাওনা ২০০ কোটি টাকারও বেশি।
