নিজস্ব সংবাদদাতা: জুতো পড়ার সময় দেওয়া হয়নি। ‘গুন্ডা’ পাঠিয়ে আটক করা হয়েছিল ধ্রুব রাঠী’কে। থানা থেকে ফিরে রবিবার সকালে গুরুগ্রামের বাড়িতে বসে এমনটাই দাবি করলেন ইউটিউবার। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়োবার্তা প্রকাশ করে শনিবারের আটক প্রসঙ্গে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। গোটা ঘটনাকে তিনি ‘অপহরণ’ বলেও বর্ণনা করেছেন ভিডিয়োতে।
ধ্রুবের অভিযোগ, গতকাল তাঁর বাড়িতে ৫০ জনের বেশি লোক আচমকা হাজির হয়। এরপর তাঁর মা দরজা খুলতেই সোজা তাঁর শোয়ার ঘরে চলে যায় সাদা পোশাক পড়া লোকজন। যাদের ‘গুন্ডা’ বলে মন্তব্য করেছেন রাঠী। তাঁর কথায়, “আমি ঘুমোচ্ছিলাম। সকাল ৭টা নাগাদ বাড়ির বাইরে লোকজন ঘোরাফেরা করছে দেখে আমার মা দরজা খোলেন। কোনও পুলিশ ছিল না। সাধারণ পোশাক পরা লোকজন আমার মাকে ধাক্কা মেরে ভিতরে ঢোকেন এবং সোজা চলে আসেন আমার শোয়ার ঘরে। মা চিৎকার করছিলেন। আমি ঘুম ভেঙে উঠে কিছু বলা বা করার সুযোগ পাইনি। জুতো পরার সময়টুকুও আমাকে দেওয়া হয়নি। আমাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাড়ি থেকে। অপহরণ শব্দটাই আমি ব্যবহার করতে চাই। কারণ, এটা কোনও গ্রেফতারি বা আটক নয়। যদি কোথাও প্রতিবাদ আন্দোলন করতে যেতাম, সেখান থেকে ধরলে তাকে আটক বলা যেত। গুন্ডা পাঠিয়ে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে। বাড়িতে তখন আমি, বাবা, মা ছাড়া আর কেউ ছিল না।”
এখানেই শেষ না। তাঁর আরও অভিযোগ, “আমার ফোন, আমার বাবা-মায়ের ফোন শুরুতেই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। থানায় গিয়ে আমি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাই। সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফোনও ব্যবহার করতে দেয়নি। শুধু বলা হচ্ছিল, ‘এটা গ্রেফতারি নয়, আটক নয়। আপনাকে ছেড়ে দেওয়া হবে’। টানা ২২-২৩ ঘণ্টা আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল। একে অপহরণ ছাড়া আর কী বলব?”
এরপরেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন ধ্রুব। বলেন, “কোনও গণতান্ত্রিক দেশে কি কখনও এটা দেখা যায়? একজন সাধারণ নাগরিক, যিনি কোনও আইন ভাঙেননি, কেবল সত্যের পক্ষে সরব হয়েছেন, তাঁর বাড়িতে ঢুকে শোয়ার ঘর থেকে তাঁকে অপহরণ করা হচ্ছে, তাঁর বাবা-মার সঙ্গে মারপিট, হাতাহাতি করা হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রে হতে পারে না। মোদী এই দেশে স্বৈরতন্ত্র চালু করে দিয়েছেন। সোজা কথায়, অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে।” একইসঙ্গে এদিনের ভিডিয়োবার্তা থেকে নিজের নাগরিকত্ব প্রসঙ্গেও পরিষ্কার মন্তব্য করেন তিনি। নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট হাতে নিয়ে ভিডিয়ো রেকর্ড করে ধ্রুব জানান, তিনি ভারতীয় নাগরিক। যে কোনও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অধিকার তাঁর আছে।