অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: জন্মদিনের রাতে কালীঘাটে নিজের বাড়ির সামনে দুষ্কৃতী হামলার অভিযোগ তুলে সরব হলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাত ২টো নাগাদ তাঁর বাড়িতে হামলা চালান হয়েছে। তাঁর সমর্থকদের ইট-পাটকেল দিয়ে মারা হয়েছে। নেপথ্যে শাসক দলের হাত রয়েছে বলেই দাবি জানিয়েছেন অভিষেক। যদিও পুরো ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি।
অভিষেকের দাবি, শুক্রবার রাত প্রায় ২টো নাগাদ কালীঘাটের বাড়ির সামনে তাঁর জন্মদিন উদযাপন চলছিল। সেই সময় আচমকা ‘চোর’ বলে স্লোগান তোলে এক দল। এরপর মুহূর্তেই তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে শুরু হয় বচসা। যা পরে হাতাহাতি পর্যন্ত পৌঁছয়। ঘটনায় অভিষেকের অভিযোগ, “বিজেপির গুন্ডারা আমাদের সমর্থকদের মাটিতে ফেলে ইট দিয়ে মেরেছে।” এই ইস্যুতে তুলে তিনি একটি ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। যেখানে কয়েকজনকে তাঁর ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যাচ্ছে।
এক্স হ্যান্ডলে অভিষেক লিখেছেন, “দু’দিন ধরে টানা রেকি করার পর আজ রাত ২টোয় এভাবেই বিজেপির গুন্ডারা আমার বাড়িতে হামলা চালাল। ফুটেজ দেখুন, নিজেরাই বিচার করুন। একজন নির্বাচিত সাংসদের সঙ্গে যদি এমন হতে পারে, তাহলে বাংলার সাধারণ মানুষের কী অবস্থা ভাবুন। গত ছ’মাসে এটা আমার উপর সপ্তমবার প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা। তবুও পুলিশের কোনও ব্যবস্থা নেই, বিচারবিভাগের কোনও হস্তক্ষেপ নেই।”
ঘটনার পর অভিষেক নিজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশ ও বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। তাঁর অভিযোগ, শাসকদলের কর্মীরা পুলিশের সামনেই মারধর করেছে। এমনকি বিজেপি সমর্থকরা রিভলভার নিয়ে এসেছিল এবং তাঁকে খুনের পূর্বপরিকল্পনা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিকদের অভিষেক বলেন, “আমাদের এক সহকর্মী তাপসের বুড়ো আঙুলের কাছের টিস্যু থেঁতলে গিয়েছে। হাসপাতালে পাঠিয়েছিলাম সেলাইয়ের জন্য, কিন্তু চিকিৎসক বলেছেন সেলাইয়ে হবে না, প্লাস্টিক সার্জারি লাগবে। আর একজনের চোখের নিচের হাড় ভেঙে গিয়েছে। পুলিশের সামনেই ইট-পাথর ছোড়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “১৯ জুন সোনারপুরে দিল্লি থেকে ফেরার সময়ও বন্দুক নিয়ে আমার উপর হামলার চেষ্টা হয়েছিল। আমাদের কর্মীরা তাদের হাতেনাতে ধরেছিল। অভিযোগ করেছিলাম, তবুও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।”
এর আগে, গত দু’দিন ধরে তাঁর অফিস ও বাড়ির সামনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা রেকি করছেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন অভিষেক। ধরা পড়লে তাঁরা নিজেদের পুলিশ বলে পরিচয় দিয়েছিল বলে দাবি তাঁর। এই নজরদারি নিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা, কলকাতা পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “প্রথমবার দেখছি কোনও নেতার জন্মদিন ফুটপাতে পালন হচ্ছে! রাতে কেউ উপদ্রব করলে প্রতিবাদ তো হবেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মারার সময় কার আছে? কিছুই আর বাকি নেই, তাই আবেগের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।”