নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া: গ্রামীণ এলাকায় পর্যটনের বিকাশ, দিঘি সংস্কার, জব কার্ড যাচাই এবং পঞ্চায়েত কর্মীদের অধিকার রক্ষা নিয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। আজ, শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, পঞ্চায়েত এলাকার অব্যবহৃত এবং মনোরম জায়গাগুলিকে চিহ্নিত করে সেগুলির সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে জানান, কাঁচরাপাড়া থেকে হরিণঘাটার দিকে যাওয়ার ফ্লাইওভারের পাশে একটি বিশাল দিঘি দীর্ঘদিন ধরে মজে রয়েছে। সেই দিঘিটি পুনর্খনন করে পাড় বাঁধানো, গাছ লাগানো এবং ফুটপাথ তৈরি করে সাধারণ মানুষের জন্য পিকনিক ও ভ্রমণের কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পরবর্তীকালে যা পঞ্চায়েতের নিজস্ব সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি জানান, এই লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সামগ্রিক কাজ এগিয়ে চলছে। গ্রামের অব্যবহৃত জায়গাগুলিকে এভাবে কাজে লাগালে একদিকে যেমন এলাকার সৌন্দর্য বাড়বে, তেমনই পঞ্চায়েতের আয়ও বাড়বে।
রাজ্যে জব কার্ড বাতিলের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, রুজিরুটির সন্ধানে বাইরে কাজ করতে গেলেও কারও কার্ড বাতিল হবে না। যাঁর বৈধ নথিপত্র রয়েছে এবং যিনি প্রকৃত অর্থে যোগ্য, তিনি কাজ করুন বা না করুন, তাঁর কার্ড বহাল থাকবে। শুধুমাত্র যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং যাঁদের বাস্তবে কোনও অস্তিত্ব নেই কিংবা যাঁরা কোনওদিন নথিপত্র নিয়ে হাজির হননি, কেবল তাঁদের নামই তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে।
এদিন ভুয়ো ডাক্তার সমস্যা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের জীবন যাঁদের হাতে ন্যস্ত, তাঁরা যদি ভুয়ো সার্টিফিকেট নিয়ে চিকিৎসা করেন, তবে তা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। তাই চিকিৎসকদের ডিগ্রি ও শংসাপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা উচিত।
পঞ্চায়েতের চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মীদের বিষয়ে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, সরকার তাঁদের ভবিষ্যৎ, অধিকার ও সামাজিক সম্মান নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই অনেকে বর্ধিত বেতন পেতে শুরু করেছেন এবং বাকিরাও তা দ্রুত পেয়ে যাবেন। একই সঙ্গে কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সুবিধাও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।