ওঙ্কার ডেস্ক: প্রয়াত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবু হেনা। রবিবার রাত পৌনে ১১টা নাগাদ কলকাতার সল্টলেকের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান নেতা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মক্ষেত্র লালগোলায়। সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। প্রিয় নেতার অন্তিম যাত্রায় শামিল হতে ইতিমধ্যেই লালগোলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকস্তব্ধ মানুষ জড়ো হতে শুরু করেছেন।
পেশায় আইনজীবী আবু হেনা ছিলেন এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা আব্দুস সাত্তার ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের মন্ত্রিসভার সদস্য। বাবার দেখানো পথেই রাজনীতিতে পা রাখেন তিনি। ১৯৯১ সাল থেকে একটানা ৩০ বছর লালগোলা কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক ছিলেন আবু হেনা। মানুষের পাশে থেকে লালগোলার উন্নয়নে একাধিক কাজ করেছিলেন তিনি।২০১১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব পান তিনি। তবে কংগ্রেস সরকারের সমর্থন প্রত্যাহার করলে তিনিও মন্ত্রিত্ব ছাড়েন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সততা, নিষ্ঠা আর মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাই ছিল তাঁর মূল অস্ত্র। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খান তিনি। দীর্ঘ তিন দশকের অবিচ্ছিন্ন জয়যাত্রার অবসান ঘটে তৃণমূল প্রার্থী মহম্মদ আলির কাছে হেরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। তবুও দলের কাজ থেকে সরে আসেননি। শেষদিন পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
আবু হেনার মৃত্যুতে রাজ্য কংগ্রেসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাক্তন সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী এক আবেগঘন বার্তায় শোকপ্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ভাবতেই পারছি না, হেনাদা আর নেই। গত সপ্তাহেই দেখা করেছিলাম। বিশ্বাস ছিল, আবার আমাদের সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে ফিরবেন। হেনাদা শুধু প্রাক্তন মন্ত্রী ছিলেন না, তিনি আমার সহযোদ্ধা, পরিবারের একজন। সততা, নিষ্ঠা আর আদর্শের মূর্ত প্রতীক ছিলেন তিনি।’
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বারবার প্রমাণ করেছেন, মানুষের সঙ্গে সম্পর্কই তাঁর শক্তি। লালগোলার মাটি তাঁকে বারবার আশীর্বাদ করেছে। তাঁর প্রয়াণে সেই মাটিতেই শেষ শয়ানে শায়িত হবেন আবু হেনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর মৃত্যুতে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। কংগ্রেস হারাল এক দক্ষ সংগঠক, কর্মীরা হারালেন প্রেরণার বাতিঘর, আর সাধারণ মানুষ হারালেন ভরসার একজন মানুষকে।
বছরের পর বছর ধরে দল ও মানুষের জন্য লড়াই করে যাওয়া এই নেতার প্রয়াণে শুধু লালগোলা নয়, শোকস্তব্ধ গোটা মুর্শিদাবাদ। রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন, আবু হেনার প্রতি সকলেরই শ্রদ্ধা ছিল সমান। তাঁর স্মৃতিই আগামী দিনে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে।
