অর্পিতা মুখার্জী, গাইঘাটা: কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে ধৃতের মৃত্যু হল পুলিশি এনকাউন্টারে। পুলিশ সূত্রের দাবি, পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস, পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয় তার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত ১২টার কিছু আগে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথে বৈদ্যবাড়ি এলাকায় প্রস্রাবের অজুহাতে গাড়ি থামাতে বলেন প্রহ্লাদ। তখনই এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালায় বলে পুলিশের দাবি। একটি গুলি লাগে পুলিশের গাড়িতে। হামলায় জখম হন এক পুলিশকর্মী, আরেকজন প্রাণ বাঁচাতে পাশের জলাশয়ে ঝাঁপ দেন বলে দাবি।
এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশও চার রাউন্ড গুলি চালায়। যার মধ্যে একটি গুলি লাগে অভিযুক্তের গায়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। সেখানেই জখম পুলিশকর্মীর প্রাথমিক চিকিৎসা হয় বলে দাবি সূত্রের। অন্যদিকে এই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে একাধিক মহলে। যদিও পুলিশি এনকাউন্টারে খুশি নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবার ও প্রতিবেশীরা। নিহত কিশোরীর বাবার কথায়, “মেয়েকে তো আর ফেরত পাব না। পুলিশ ভাল কাজ করেছে। অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেছিল, পুলিশকে গুলি চালিয়েছিল।”
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে বাড়ির কাছে জলসা দেখতে গিয়েছিল ১৭ বছরের ওই কিশোরী। পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ একটি ফোন পেয়ে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যায় সে, তারপর আর ফেরেনি। রবিবার সকালে উদ্ধার হয় তার বিবস্ত্র, ক্ষতবিক্ষত দেহ। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় রবিবারই পরিবারের আত্মীয় প্রহ্লাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।