ওঙ্কার ডেস্ক: দুর্গাপুজোয় বামেদের বইয়ের স্টল ঘিরে প্রশাসনের উচ্ছেদের চেষ্টা অব্যাহত। বইয়ের স্টল ভাঙতে সপ্তমীর সন্ধ্যায় নিয়ে আসা হল বুলডোজার। যদিও বামপন্থী মানুষজনের সমবেত প্রতিরোধে পিছু হঠে প্রশাসন। যাদবপুর ছাড়াও এদিন উত্তেজনা ছড়িয়েছে বারাসত ও নাগেরবাজারে। কোথাও স্টল সরানোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, কোথাও আবার ভাঙচুর ও সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার সন্ধ্যায় যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে সিপিএমের একটি অস্থায়ী বইয়ের স্টল ভাঙার চেষ্টা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, পুলিশ সেখানে পৌঁছে স্টল সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। স্টল ভাঙার জন্য ঘটনাস্থলে একটি বুলডোজারও আনা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। স্টল সরানোর নির্দেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। পুলিশের কাছে কোনও লিখিত নোটিস বা আইনি নির্দেশ রয়েছে কি না, তা জানতে চান বাম নেতৃত্ব। এদিকে, খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান বাম কর্মীরা। তাঁরা স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় সঙ্গীতও গাইতে শুরু করেন।
অন্য দিকে যাদবপুরের পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতেও বামেদের বইয়ের স্টল ঘিরে অশান্তি ছড়ায়। কলোনি মোড় ও চাঁপাডালি মোড় এলাকায় সিপিএমের বুকস্টলে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। সিপিএমের অভিযোগ, শনিবার সন্ধ্যায় কয়েক জন বিজেপি সমর্থক হনুমান চালিশা হাতে সেখানে হাজির হন। এরপর স্টলের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে দেওয়া হয়। নষ্ট করা হয় বইপত্রও। উপস্থিত লোকজনের হাতে হনুমান চালিশা তুলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।