অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: দুর্গাপুজোর সময় চোরবাগানে প্রাণহানির ঘটনার পর কালীপুজোয় নিরাপত্তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন। সবচেয়ে বেশি নজরদারি নৈহাটির বড়মার মন্দিরে। যেখানে প্রতি বছর কাতারে কাতারে ভক্ত আসেন মায়ের আরাধনায়। তাই আনন্দ উৎসবে যেন আর বিপত্তি তৈরি হয় না, তার জন্য আগে থেকেই একগুচ্ছ নয়া সিদ্ধান্ত নিল জেলা প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে এবার যাতায়াতের পথ পুরোপুরি আলাদা করা হচ্ছে। একটি পথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ এবং অন্য পথ দিয়ে বাইরে বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। সরু গলিতে যাতে দুদিকের জনস্রোত আটকে না যায়, সেদিকে কড়া নজর থাকবে। পুণ্যার্থীদের স্নান এবং চলাচল যাতে নির্বিঘ্নে হয়, তার জন্য ট্রাফিক পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
সোমবার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া নিজে গিয়ে মন্দির এলাকা খতিয়ে দেখেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুজো কমিটির প্রতিনিধি ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা।
এবার কোনও বিশেষ প্রবেশাধিকার থাকছে না। সাধারণ ভক্ত এবং অতিথি – সবার জন্য একই লাইনের ব্যবস্থা। আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে।
প্রসঙ্গত, এই বছর ১০৩ বছরে পা দিল নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড়মার আরাধনা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ তারিখ থেকে ৬ তারিখ মানতের পুজো নেওয়া হবে। ৬ থেকে ৮ তারিখ সন্ধ্যা ছয়টা অবধি সকল প্রকার অর্ঘ্য গ্রহণ করা হবে। ৭ এবং ৮ তারিখ মাকে অলঙ্কারে সজ্জিত করা হবে, ওই দুই দিন দণ্ডি এবং প্রসাদের ডালা গ্রহণ চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
৮ তারিখ রবিবার মূল অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় বরণ, রাত ১১টার পর ঘট স্থাপন, মধ্যরাত থেকে পুজো শুরু। তারপর অঞ্জলি এবং ভোররাত তিনটে থেকে প্রসাদ বিতরণের সূচি রয়েছে।