স্পোর্টস রিপোর্টার : ভালো খেলেও ফের হার ইস্টবেঙ্গলের। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ তে ইস্টবেঙ্গল ৮৫ মিনিটের গোলে আল সিবের কাছে প্রথম গোল হজম করে। দ্বিতীয় গোল খায় ৯১ মিনিটে। ওমানের মাঠে আল সিবের বিরুদ্ধে গোলশূণ্য ড্র করে ফিরেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেখানে মঙ্গলবার যুবভারতীতে ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থন সঙ্গে নিয়েও আল সিবের কাছে ০-২ গোলে হেরে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র নকআউট পর্যায়ে যাওয়া কঠিন শুধু নয়, কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ল। ৪ ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের সংগ্রহ মাত্র ২ পয়েন্ট। আল সিবের সংগ্রহ ৪ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট। গ্রুপের অন্য দু’দল আল হুসেইনির ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট ও আল শোরতার ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট। বিরাট কোনও অঘটনের অঙ্ক ছাড়া ইস্টবেঙ্গলের নকআউটে খেলা সম্ভব নয়।
পরপর ম্যাচ খেলার ক্লান্তি ও যাতায়াতের ধকলের উল্লেখ করলেও, ওমানের মাঠে খেলে আসা দলটাকেই যুবভারতীতে ঘরের মাঠে আল সিবের বিরুদ্ধে ফিরতি ম্যাচে অপরিবর্তিত রাখলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। সম্ভবত তাঁর মনে হয়েছে, দলে বারবার বেশি বদল আনলে, ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়া নষ্ট হতে পারে। তাতে ছন্দপতন ঘটা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে যেখানে ঘরের মাঠে আল সিবের বিরুদ্ধে জেতাটা জরুরি ছিল এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র খেলায় নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে।
এক দল ধরে রেখে খেলানোর হাবাসের সিদ্ধান্তটা অবশ্যই সঠিক। তার ফলটা অবশ্য লাল হলুদ খেলায় ধরা পড়ছিল। শুরু থেকেই আক্রমণ শানিয়ে আল সিব রক্ষণকে অস্বস্তিতে রাখেন বিপিন, রামিরেজ, রশিদ, এডমুন্ড, ডেভিডরা। হচ্ছিল সবকিছুই, কিন্তু কাঙ্খিত গোলটাই আসছিল না ফিনিংশের অভাবে।শোর্তার বিরুদ্ধে ৭-৮ গোল হতে পারত। এদিন সেই সম্ভাবনা না থাকলেও অনায়াসেই জিততে পারত ইস্টবেঙ্গল। বলা যায়, জেতা ম্যাচ হারল হাবাসের দল। সেই একই রোগে। যার ওষুধ নেই খোদ লাল হলুদ দলের বর্ষীয়ান কোচ আন্টেনিও লোপেজ হাবাসের কাছেও। কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে গেলেন, ‘তোমরা সবাই ম্যাচটা দেখেছো। গোল না এলে, আমার আর কী করার আছে!’হাবাস বলেন, ‘আমরা ৭-৮ টা সুযোগ পেয়েছিলাম। তারমধ্যে তিন থেকে চারটে গোল হওয়া উচিত ছিল। ওরা দুটো সুযোগ পেয়েছে, গোল করেছে। আমাদের প্রথম ৪৫ মিনিটের মধ্যে অন্তত দু’তিন গোলে এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। গোলের লাইনে আমরা কতগুলো সুযোগ পেয়েছি সবাই দেখেছে। কিন্তু আমরা গোল করতে পারিনি। ওরা ৮০ মিনিট পর্যন্ত একটাও সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। কিন্তু শেষদিকে দুটো সুযোগ থেকেই গোল করেছে। এত গোল মিস হলে কী করা যাবে! একদিন আমরা পাঁচ গোল করি, অন্যদিন গোলই পাই না।’ এএফসির পাশাপাশি খেলতে হচ্ছে আইএসএলও। দুটো ভিন্ন প্রতিযোগিতায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দল নামাতে হচ্ছে। প্লেয়ারদের শারীরিক এবং মানসিক রিকভারি হচ্ছে না। হারের জন্য এই কারণকেও দায়ী করেন ইস্টবেঙ্গল কোচ।
হাবাস বলেন, ‘আমাদের একইসঙ্গে দুটো টুর্নামেন্ট খেলতে হচ্ছে। ফুটবলাররা শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। পর্যাপ্ত মানসিক রিকভারিও হচ্ছে না। এটা একটা বড় সমস্যা। ম্যাচের ১৮ মিনিটে চোট পেয়ে আনোয়ারের মাঠ ছাড়া যে বড় ক্ষতি মেনে নিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। জানান, আনোয়ার দলের গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ার। ওরা না থাকা বড় ক্ষতি। তবে আনোয়ার থাকলেও কি স্কোরলাইনে বড় পার্থক্য দেখা যেত? খুব বেশি হলে, ম্যাচ ড্র হত। তখনও গোল মিসের খেসারত দিতে হত ইস্টবেঙ্গলকে। এএফসি যাত্রা এখানেই শেষ। এবার কি আবার আইএসএলে ফোকাস ফেরাবেন? শনিবার চেন্নাইনের বিরুদ্ধে পরের ম্যাচ। হাবাস জানালেন, ম্যাচ প্রতি পরিস্থিতি বুঝে এগোতে চান। চেন্নাই ম্যাচের পর বিরতি রয়েছে। সেটাকেই দল মেরামতের জন্য কাজে লাগাতে চান স্প্যানিশ কোচ।